প্রথম বারের মতো উৎসাহ ও উদ্দীপনায় জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সিড়িঘাট তেঘরিয়ার জয় বাংলা বাজার এলাকায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘শশুর মেলা’ গতকাল বুধবার থেকে এ মেলা শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার মেলার দ্বিতীয় দিন চলছে। মেলা চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বুধবার বিকালে মেলাটির উদ্বোধন করেন মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক মনিরুজ্জামান জুয়েল, এমসয় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, মেলা কমিটির আহব্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন উজ্জল, মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম শাওন ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব শেখ মিষ্টার জামিল প্রমুখ।
মেলার প্রথম দিনেই ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো। শশুর মেলার মূল চরিত্র হলো ‘শশুর’ সম্পর্কের মানুষগুলো,মেলার সময় আশপাশের গ্রামগুলোতে শশুর শাশুড়ী ও তাদের আত্বীয় স্বজনদের দাওয়াত করে আনা হয়। শশুররা মেলা থেকে বিভিন্ন পন্য ও খাদ্য সামগ্রী কেনেন জামাইবাড়ির জন্য। আবার শশুরকে মেলায় কেনাকাটার জামাইরা টাকাও দিয়ে থাকেন দেন। সেই টাকা দিয়েই মেলা থেকে কেনাকাটা করে জামাই বাড়িতে যান। এ বছর জেলার মাদারগঞ্জে জামাই থেকে উৎসাহিত হয়ে এ শশুর মেলার আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি। এলাকাবাসীর উদ্যোগে এবছরই ‘জামাই মেলা’ শুরু হয়েছে।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের শতাধিক স্টল রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে দেশীয় বস্ত্র,কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটিএইডস, জুতা ও চামড়াজাত পণ্যর ব্যাগ, স্পোর্টস আইটেম,খেলনা, স্টেশনারি, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
মেলার আয়োজক কমিটি ও স্থানীয়রা বলেন, এ বছরই শশুর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্ক আরও গভীর করার। এই মেলা উপলক্ষে কয়েক এলাকার লোকজন তাদের শশুর শাশুড়ী সহ আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করে ডেকে আনা হয়। মেলা থেকে শশুররা কেনাকাটা করে জামাই বাড়ি যান।
মেলায় ঘুরতে আসা জান্নাতুল ইসলাম জান্নাত বলেন, মেলায় পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি, মেলায় ঘুরে খুব ভালো লাগল, মেলায় অনেক কিছুই উঠেছে। অল্প কিছু কেনাকাটা করলাম। আর কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে চলে যাব।
নাজিম উদ্দিন নামে এক জন বলেন, নাতিনদের সঙ্গে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। নাতিনদের নাগরদোলা ও ট্রেনে উঠিয়েছিলাম। মেয়ে জামাই দাওয়াত করে এনেছে। জামাই বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পিঠার আয়োজন করেছে মেয়ে।
মেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব শেখ মিষ্টার জামিল বলেন, এ বছরই মেলার আয়োজন শুরু করেছি। চেস্টা করেছি জাঁকজমক ও সুন্দর করার। প্রথম দিনেই মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। মেলার সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মেলায় শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খুবই দায়িত্বশীল।
মেলার আহ্বায়ক শাহাদাৎ হোসেন উজ্জল বলেন, শ্বশুর মেলা প্রথমবারের মত আয়োজন করা হয়েছে এবার। এলাকায় এই সময়টাতে প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়। এবার জামাইয়েরা শ্বশুরবাড়িতে না গিয়ে, শ্বশুরদের জামাই বাড়িতে দাওয়াত করা হয়েছে। তাই শীতকালীন মেলার পরিবর্তে শ্বশুর মেলা দিয়েছি। মেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।





