জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামে সত্তরর্ধ্ব এক বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে ছেলে শাহি দুলাল (৪৫) ও ছেলের বউ পারভিন (৩৫) এর বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা পিয়ারা বেগম (৭০)।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।'
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ৩৫ বছর আগে ওই বৃদ্ধ মহিলার স্বামী সালাম আকন্দ মারা যাওয়ার পর তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে অন্যের কাজ বাড়িতে কাজ করে বড় করেছেন। এর মধ্যে বড় মেয়ে শাহিনার বিয়েও হলেও ছোট মেয়ে মানুষিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হয়নি। বিভিন্ন অযুহাতে তার ছেলে ও ছেলের বউ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাকে ও তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এর আগেও একাধিকবার তাকে মেরে আহত করেছে। বর্তমানে তিনি ছোট ছেলের পাশে ছোট্ট এক ঘরে প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে থাকেন। ছেলের পাশে থাকলেও অনেকদিন থেকেই তার ছেলে তাকে ভরনপোষণ দেয় না। অন্যের বাড়িতে কাজ করেই চলছে তার।'
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তার ছেলে শাহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার প্রতিবন্ধী মেয়ে বুলবুলি ও তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। এই অত্যাচার এবার সইতে না পেরে থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন।'
মা পিয়ারা বেগম বলেন‘ আমার ছেলে শাহিদুল ও তাঁর বউ পারভীন আমাকে ও প্রতিবন্ধী মেয়ে বুলবুলিকে কোন কিছু হলেই মারধর করে। এর আগেও ১০ বার মারছে আজ আর সহ্য না করতে পেয়ে থানায় আইছি। আজ সকালে মাইনসের বাড়ি থেকে কাজ করে বাড়িতে আইছি এসময় আমাকে গালিগালাজ শুরু করে। পরে প্রতিবন্ধী মেয়ে বলছে গালাগালি না করতে। এ কথার পরেই মেয়েকে ঘুষি মেরে চুল ধরে ঘর থেকে বের করে। পরে আমি বাঁধা দিলে আমাকেও মারধর করে টেনে হেচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দে। পরে পায়ে হেঁটে অনেকক্ষণ আইছি, গাড়ি আলারা গাড়িতে তুলতে চায় না। তারপরে ১০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে থানায় আইছি, জীবনে থানাও চিনি না, আজ আইছি প্রথম। আমারে আর প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বার বার ঘরে তালা মারে। কোন কিছু হইলেই চুল ধরে পারভীন আমাকে ও মেয়েকে ধরে মারে।'
ওই বৃদ্ধার ভাতিজা বুলবুল বলেন‘ কোন কিছু হইলে প্রতিবন্ধী মেয়ে ও পিয়ারা বেগমকে মারধর করে নির্যাতন করেন তার ছেলে শাহি দুলাল। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলেটাকে ছোট থেকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন পিয়ারা। ছেলে তাঁর মাকে অনেক আগে থেকেই কোন খরচাপাতি দেয় না। আমরা এলাকার লোকজন বসে ছিলাম তবুও তাঁর ছেলে কোন কিছু মানে না।'
অভিযোগের বিষয়ে ছেলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এবিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন,' ছেলের বিরুদ্ধে পিয়ারা বেগম নামে একজন অভিযোগ করেছেন। ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
##ছবি: ছেলে ও ছেলের বউয়ের মারধরের শিকার হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে মেলান্দহ থানায় মা পিয়ারা বেগম।





