ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কুমারখালীর ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সবাই পুলিশের গুলিতে নিহত ও আহত হন। নিহতদেও পরিবাওে কাঁন্নার রোল থামছেনা। আহত অনেকেই অর্থাভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অবশ্য কিছু আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।
নিহত ৬ জনের মধ্যে রিক্সা চালক, শ্রমিক, কাঠ মিস্ত্রী ও ছাত্র রয়েছে। প্রতিটি পরিবারই অস্বচ্ছল বলে জানা গেছে। এরা সবাই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ২ জন জামায়াত কর্মী, ১ জন বিএনপি কর্মী, ১ জন ছাত্র শিবির কর্মী, ১ জন ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও ১ জনের কোন দলের সাথে সম্পৃক্ততা ছিল না বলে তথ্য পেয়েছে দৈনিক সংগ্রাম। ৬ জনই গত ৫ জুলাই নিহত এবং বিভিন্ন দিনে আহত হয়েছেন অন্যরা।
ঢাকার সাভারে মিছিলে যেয়ে শাহাদাত বরন করেন কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুরের ব্যাংকার মহিউদ্দিনের ছেলে মোঃ ইয়ামিন। তিনি সাভার সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ তাকে মেরে গাড়ী থেকে ফেলে দিয়েছিল, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। একই এলাকায় মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিএনপি কর্মী রিক্সা চালক জামাল উদ্দিন শেখ। তিনি কুমারখালীর ভাড়রা গ্রামের আজগর আলী শেখের ছেলে। ৩ সন্তানের জনক ছিলেন জামাল।
চিটাগাং রোডের শিমরাম মোড়ে মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন জামায়াত কর্মী কাঠ মিস্ত্রি আব্দুস সালাম। তিনি কুমারখালীর চরভবানীপুর গ্রামের সরোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। একই সময় পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন অপর জামায়াত কর্মী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কশবা গ্রামের ইজাই হোসেনের ছেলে শ্রমিক আলম হোসেন।
এই চিটাগাং রোডের শিমরাম মোড় এলাকায় এসময় গুলিতে আরো মারা যান নিরপেক্ষ কাঠ মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল। তিনি চর ভবানীপুরের ওহাব মন্ডলের ছেলে। এছাড়াও ৫ জুলাই ঢাকার আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ জুবায়ের আহমাদ ঢাকার খিলগাঁওতে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি কুমারখালীর চাপড়া গ্রামের কামাল উদ্দিনের সন্তান ছিলেন।
এছাড়াও জেলা শহর কুষ্টিয়া ও কুমারখালীতে মিছিলে যেয়ে বিভিন্ন সময় পুলিশের গুলি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আঘাতে আহত হয়েছেন বহু ছাত্র-জনতা।দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ অন্তত ২৫ জনের নাম পরিচয় পেয়েছে। আহতরা প্রায় সবাই জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মী।
আহত শিক্ষার্থীর পাশে সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইয়থ ডেভলপমেন্ট ফোরাম
আহতরা হচ্ছেন- বায়িছুর রহমান, আলামিন শেখ, জিয়ারুল ইসলাম, তুষার আহমাদ, মোঃ লিটন, মোঃ সুমন, সাদ্দাম হোসেন, আঃ ওহাব, তন্ময় হোসেন, রুহুল আমিন, আবু রায়হান, সাজাজাদ হোসেন, আনারুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন, সাব্বির আহমেদ, মনজুরুল ইসলাম, মোঃ জাকারিয়া, আমির হামজা, মোঃ কাজল, সাব্বির হোসেন, আবু হুরাইরা এবং আব্দুর রউফ। জেলা শহরের সদর থানার সামনে, মজমপুর গেট, চৌড়হাস মোড় ও পাঁচ রাস্তার মোড়, কুমারখালী বাসষ্টান্ড ও ঢাকার মাওনা এলাকায় তারা আহত হয়েছিলেন। আহতরা অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন। মারাত্মক শংকায় রয়েছে চর জগন্নাথপুরের আহত হামিদুর রহমান। তার শরীরে অসংখ্য র্ছরা গুলি লেগেছে। এখনও সে শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।
কুমারখালীতে নিহত ৬ শহীদ আহত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। জেলা আমির আবুল হাশেম, সামাজিক সংগঠন ইয়থ ডেভলপমেন্ট ফোরামের চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম চপল ও আর্ণ এন্ড লিভ‘র প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে তাদের বাড়ী যেয়ে সহায়তার অর্থ তুলে দেন।





