কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়া কলেজ মোরে বাদী সঞ্জয় রায়, পিতাঃ শমীর রায়, থানা ও জেলাঃ কুষ্টিয়া, একজন ফার্মেসী ব্যবসায়ী। মিরাজ ফার্মেসী নামক একটি ঔষুধ দোকানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো। সঞ্জয় রায় তার পিতা মাতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় বাদীর পিতা মাতার এবং পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার উপর আছে। সংগ্রাম করে সে অল্প রোজগার করতেন।
একদিন আলিয়াম মুর্তুজা নামক একজন ব্যাক্তি, তার ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনার অজুহাতে বন্ধুত্বের সyfম্পর্ক তৈরি করে। পরবর্তীতে সে একজন বাংলাদেশের স্বনামধন্য মন্ত্রীর ফুপাত ভাই বলে পরিচয় দেয়। ( যা পরবর্তীতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়)।
আলিয়াম মুর্তুজা তার প্রভাব, প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে, সঞ্জয় রায় এর কাছ থেকে নিয়মিত
চাঁদা আদায় করত। যার পরিমান প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বলে বাদী আমাদের জানান। আলিয়াম মুর্তুজা এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিনা পয়সায় ঔষুধ নিত। বহুদিন বিনা পয়সায় ঔষুধ দেয়ার পর বাদী সঞ্জয় রায় সাহস করে মূল্য পরিশোধ করার কথা বললে, আলিয়াম মুর্তুজা তাঁকে পুলিশ এবং প্রশাসনের দাড়া শায়েস্তা করার হুমকি দিত এবং সংখ্যা লঘু হওয়ার ফলে তাঁকে কেউ সাহায্য করতে আসবে না বলে তাঁকে আতঙ্কের মধ্যে রাখত। এভাবে কোন উপায় না পেয়ে বাদী তাদের অনৈতিক চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে থাকে।
সঞ্জয় রায় এর উপর মুর্তুজা প্রায় চাঁদাবাজি করতে থাকতেন। তারপরও অতি লোভে এবং নেশাগ্রস্ত আসামী মুর্তুজা গত ১০/১২/২০২২ তারিখে তার সঙ্গীদের সাথে, সঞ্জয় রায় এর কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। সঞ্জয় রায় তাকে দিতে অস্বীকার করলে আলিয়াম মুর্তুজা ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী লোকজন সহ ফার্মেসীর ভিতরে প্রবেশ করে, ফার্মেসী তে থাকা ক্যাশ বাক্স এর সম্পূর্ণ ২ লক্ষ টাকা জোর পূর্বক নিয়ে নেয়। ফার্মেসীতে থাকা হিসাব রাখার একটি মাত্র কম্পিউটার যার মূল্য ৩২ হাজার টাকা সহ, অনেক মূল্যবান ওষুধ প
ত্র জোর পূর্বক নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হত্যার হুমকি দিয়ে বলে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে তাকে অপহরণ করে গুম করে দেয়া হবে।
পরবর্তীতে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিতে পারলে নিরুপায় ও অসহায় সঞ্জয় রায় এর ফার্মেসীতে তালা মেরে দেয় এবং তার একমাত্র উপার্জন ব্যবসা বন্ধ করে দেয় এবং সঞ্জয় রায়কে এবং তার পিতা মাতা কে আবারো হত্যার হুমকি দেয়। তখন সঞ্জয় রায় প্রাণভয়ে কুষ্টিয়া শহর ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আশ্রায় নেয়। এর প্রেক্ষিতে সঞ্জয় রায় এর বাবা হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পরেন। সঞ্জয় রায় জানান, তিনি একমাত্র ভুক্তভুগি নন। মিথ্যা পরিচয়ে বহু অসহায় পরিবার এর নিকট থেকে আলিয়াম মুর্তুজা জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করেছে। সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করার সাহস পায়নি।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গন মাধ্যমের সহায়তায় সঞ্জয় রায় খোজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হন, আসামী আলিয়াম মুর্তুজা কোন মন্ত্রী বা এম্পির আত্মীয় নয়। দীর্ঘ ৮ মাস পর কুষ্টিয়ায় ফিরে আসামী দের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় চাদাবাজি, হত্যার হুমকি ও মিথ্যা পরিচয়ে হয়রানির অভিযোগ আনিয়া লিখিত এজাহার দায়ের করে।
মডেল থানা পুলিশ লিখিত এজাহার পাইয়া তাহার বিরুধে সদর থানার নিয়মিত মামলা রজু করে যার নম্বরঃ ২৪, তারিখ ১০/০৯/২০২৩ ধারা ৪১৯, ৩৮৫ ও ৩৮৬ দঃ বিধি, পুলিশ পরদিন আসামী আলিয়াম মুর্তুজা কে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে সোপর্দ করে। ধারা ৩৮৫ এর মোতাবেক শাস্তির বিধান সর্বোচ্চ ১৪ বছর হওয়া সত্তেও, আসামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জামিন প্রাপ্ত হয়,এবং আসামী বাদী সঞ্জয় রায় এং তার পিতা মাতাকে মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন উপায়ে চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে বাদী সংখ্যা লঘু হওয়ায় এবং কোন আত্মীয় স্বজন না থাকায় প্রাণ ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্য জেলায় আশ্রায় নেয় এবং সংবাদ মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে প্রশাসনিক সহয়তা কামনা করেছে।





