কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে রেলওয়ে কর্মচারী মাহবুবুর রহমানকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে এ রায় দেন কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক শারমিন হাসনাত পারভীন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের উত্ততপাড়া গ্রামের রোখসানা আক্তার ও প্রেমিক একই গ্রামের আসিফ আহম্মেদ।
বিষয়টি স্বীকার করেছেন আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র দাস ও মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাখাল চন্দ্র দাস ও আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট বাবু অশোক ঘোষ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, নিহত মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগে ঢাকার কমলাপুরে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ভৈরবে তার বড় ভাইয়ের বাসায় থাকতেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কাছে আসতেন। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মাহবুব ভৈরবে স্ত্রী সন্তানের কাছে এলে পরের দিন ভোরে বাসার ভেতর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলে প্রচার করেন তার স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের পরের দিন মাহবুবের বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ভৈরব থানায় হত্যা মামলা করেন। থানার তৎকালীন ওসি মো. শাহিন ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির ঘটনা সন্দেহ পোষণ করে স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে রোখসানা আক্তার পুলিশের কাছে স্বীকার করে তার বাসার কাছে প্রতিবেশী কলেজছাত্র আসিফের সঙ্গে তার প্রেম ছিল।
মাহবুব ঢাকায় থাকলে রাতে প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান রোখসানা। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে মাহবুবকে পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার করেন তারা। এরপর কিশোরগঞ্জ আদালতে খুনের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তারা। অবশেষে দীর্ঘ ৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।
মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি।





