Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

গ্রাহকের ৬'শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও, গ্রেপ্তার ৪

admin • 17 Nov 2024, 10:15 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
গ্রাহকের ৬'শ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও, গ্রেপ্তার  ৪

বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে বগুড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এর আগে শনিবার মামুনের স্ত্রী, ভাগনি জামাই এবং বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনুর বোন সুফাকে আটক করে পুলিশ। নাজিম উদ্দিন তনু নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার বাসিন্দা।

 

মামুনুর রশিদ মামুনের আটকের খবর পেয়ে প্রায় দুইশ ভুক্তভোগী দুপুরে সদর থানায় গিয়ে ভিড় করেন। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠান।

 

জানা যায়, নওগাঁ শহরের খাঁস-নওগাঁ পোস্ট অফিস পাড়ায় গত কয়েক বছর থেকে বেসরকারি সংস্থা বন্ধু মিতালী ফাউন্ডেশন ঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

 

তারা জামানতকারীদের লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা (লাভ) দিতেন। জেলার ১১টি উপজেলায় এ সংস্থার শাখা রয়েছে। উচ্চ মুনাফার ফাঁদে পড়ে গ্রামের সহজ-সরল শত শত মানুষ কোটি কোটি টাকা আমানত রাখে। এ সংস্থার সদস্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত দুই মাস থেকে গ্রাহকদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেয় ওই সংস্থা। তারপরও সংস্থার প্রধান নির্বাহী (এমডি) নাজিম উদ্দিন তনু কৌশলে গ্রাহকদের ডিসেম্বর মাস থেকে মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। কিছুদিন আগেও শহরের সরিষাহাটির মোড়ে একটি শাখা বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ পাওয়ায় শাখার শত শত গ্রাহক দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। মুনাফা না পেয়ে কিছুদিন আগে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করে।

 

গত অক্টোবর মাসে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এক সমাবেশে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান।

 

তারা আরো জানান, গত ১২ নভেম্বর সংস্থার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে রাতের আধারে সাড়ে ৫ হাজার গ্রাহকের অন্তত ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান সংস্থার পরিচালক ও চেয়ারম্যান। শত শত গ্রাহক প্রতিদিন সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আদৌ টাকা পাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন গ্রাহকরা। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় পৃথক দুটি মামলাও হয়েছে।

 

খাঁস-নওগাঁ মহল্লা বাসিন্দা মোসতাক আহমেদ পাপ্পু বলেন, ‘অসুস্থ মানুষ কাজ করতে পারি না। কর্ম জীবনে সঞ্চিত ৫ লাখ টাকা গত ৩ বছর আগে এ সংস্থায় রেখেছিলাম। মাসে ১০ হাজার টাকা মুনাফা পেতাম। যা দিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ মেটাতাম। গত দুই মাস আগে ৫০ হাজার টাকা তুলে নিই। বাকি টাকা আজ কাল দিব দিব বলে কালক্ষেপণ করছিল তনু। হঠাৎ করে অফিস বন্ধ করে সবাই উধাও হয়ে যায়। এ মাসেও মুনাফা পাওয়া যায়নি। এখন সংসার চালাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।’

 

একই এলাকার গৃহবধূ শারমিন বলেন, ‘জমি বন্ধক রেখে গত এক বছর আগে এ সংস্থায় ৭ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। মাসে দুই হাজার করে লাভ পেতাম। বেশ কিছু সংস্থা পালিয়ে গেছে। এসব দেখে টাকা তুলে নিতে চেয়েছিলাম। ডিসেম্বর মাসে সংস্থা থেকে টাকাও দিতে চেয়েছে। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে যায়। এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

 

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মামুনুর রশিদ মামুনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

 

তিনি আরো বলেন, ‘মামুনুর রশিদ মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। আগে তিনি কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হন। তার কোনো ব্যবসা বাণিজ্য নেই। কোন যোগ্যতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি জানেন না। এছাড়া কত টাকা সংস্থায় জমা আছে সেটাও জানেন না। এমন একজন মানুষ কিভাবে চেয়ারম্যান হতে পারে, আর গ্রাহকরা কিভাবে এতো টাকা রাখতে পারে, তা আমার বোধগম্য না।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।