Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

খুলনায় ৬০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু

admin • 23 Mar 2024, 10:30 AM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
খুলনায় ৬০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি শুরু

তিনটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে খুলনায় ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মার্চ) নগরীর শিববাড়ি মোড়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই মাংস বিক্রি করা হয়।

এতে প্রায় ৫০০ জন মানুষ ১ কেজি করে মাংস কেনার সুযোগ পান। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে গরুর মাংস কিনতে পেরে খুশি হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

খুলনা ব্লাড ব্যাংক, খুলনা অক্সিজেন ব্যাংক ও খুলনা ফুড ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবীরা এই আয়োজন করেন। তারা বড় সাইজের দুটি ষাঁড় কিনে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জবাই করেন। সেই মাংস ৬০০ টাকা কেজি করে বিক্রি করেন তারা। সকাল ৮টায় খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক মাংস বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

খুলনা ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সালেহ উদ্দিন সবুজ বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষও যাতে মাংস কিনে খেতে পারে সেজন্য তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। মাংস বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে রমজানে বেশি দামে মাংস বিক্রি করছেন। তারা চাইলে মাংসের দাম কমাতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫০০ জন মানুষের কাছে ১ কেজি করে মোট প্রায় ৫০০ কেজি মাংস বিক্রি করা হয়েছে। অবশ্য কয়েকজন আধা কেজি করে মাংস কিনেছেন। অনেক মাংসের চাহিদা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাইকে দিতে পারিনি।

তিনি বলেন, খুলনায় অনেকগুলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। বিত্তশালী অনেক মানুষ রয়েছেন। তারা চাইলে রমজানে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। তাহলে মানুষ উপকৃত হবে। সেই সঙ্গে মাংস বিক্রেতারা যে ৭৫০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছে, সেই মূল্য কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চেষ্টা করব প্রতিদিন এভাবে মাংস বিক্রি করতে। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে প্রতি শুক্রবার এভাবে ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টায় প্রায় দুই শ নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে মাংস কিনছেন। লাইনের পাশে সিএনজি রেখে মাংস কিনতে দাঁড়ানো চালক টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এক কেজি করে মাংস দেয়ার বিষয়টিও ইতিবাচক। কারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের এখন এক কেজির বেশি মাংস কেনার সামর্থ্য নেই।

গুলজান বেগম নামের এক নারী বলেন, তার কাছে তিন শ টাকা আছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি আধা কেজি মাংস কিনতে এসেছেন। পুরো রোজার মাসে যেন এ রকম ব্যবস্থা থাকে সেই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্বেচ্ছাসেবী তিনটি সংগঠনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সমাজের সব সেক্টরের মানুষের যদি এভাবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে আসতেন তাহলে সমাজ পরিবর্তন হতো।

খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, কয়েকজন তরুণ মিলে খুবই ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা তাদের পাশে থাকবো।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।