আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এদিন ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে হাজির হবেন শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার থাকে বেশি। সেখানে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনসহ প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে নানা প্রস্তুতি। তবে শহীদ মিনার না থাকায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৮৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তেমন আয়োজন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরকারি উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আ শ ম খসরু আলমের ভাষ্য, দিবসটিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া অন্যান্য কর্মসূচি পালন করেন তারা। যদুবয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে জানা গেছে, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪৭টি। এর মধ্যে ১২৬টিতে নেই শহীদ মিনার। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ রয়েছে ৮৩টি। এর মধ্যে ৫৭টিতে নেই শহীদ মিনার। সব মিলিয়ে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে বা উপজেলার শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেক প্রতিষ্ঠানে শুধু দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে পালন করা হয় দিবসটি।
উপজেলার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। সে জন্য দিবসটি উপলক্ষে কলেজে সংক্ষিপ্ত পরিসরে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন হয় বলে জানান অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান।
ব্যক্তিগত ও জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিভিন্ন সময়ে ২৬টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি, সেগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।
এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য নকশা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ২১টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত এসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হক বলেন, সরকারিভাবে শহীদ মিনার নির্মাণে বাধ্যবাধকতা নেই। সে জন্য শতভাগ প্রতিষ্ঠানে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভাষা দিবস ও শহীদদের সম্পর্কে জানতে ও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে শহীদ মিনার নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন।





