কুমিল্লায় কলেজছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সাতদিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি সাকিব আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার (৫ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারকৃত সাকিব কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, ওই শিক্ষার্থী দাউদকান্দি উপজেলার স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ছিল। কলেজে যাওয়া-আসার সময় সাকিবের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাকিব ভিকটিমকে প্রেমসহ বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ভিকটিম প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে সাকিব তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিসহ অপহরণের ভয় দেখায় এবং ভিকটিমের গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ভিকটিম দাউদকান্দি থানার হাসনাবাদ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামি সাকিব ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার মেম্বার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই আসামি সাকিব একটি রুম ভাড়া করে রাখে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিকটিমকে ওই ভাড়া বাসায় আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে আসামি সাকিব ওই বাসা থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে ভিকটিম মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভিকটিমের বাবা।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, থানায় মামলা দায়েরের পর জড়িত তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আসামি সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকার করেছেন।





