উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি হারিয়ে গেছে। দুদিন হল ঘুরেনি ভ্যানের চাকা। আর সেই সাথে আর ঘুরছেনা জীবনের চাকাও। সম্ভাব্য বিভিন্ন হাটে - বাজারে ও পথেঘাটে অনেক খুঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের সন্ধান মেলেনি। ভ্যান হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চালক মো. আশরাফুল আলম ওরফে আছরফ (৪৬)।
আশরাফুল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী - স্ত্রী দুজনের সংসার চলে ভ্যানের চাকায়। এখন কোথায় যাবেন? কি করবেন? কি খাবেন? এই ভেবে তাঁর কাটছে দিনরাত।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, টিনসেড ঘরের মাটির বারান্দায় বসে আছেন চালক আশরাফুল ও তাঁর স্ত্রী শেফালী খাতুন। তাঁদের চোখে - মুখে হতাশার ছাপ। পাশেই পড়ে আছে ভ্যানের চার্জার।
এসময় আশরাফুল জানান, তিনি মাত্র ৪ মাস আগে একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি অটো ভ্যান কিনেছিলেন। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে তিনি দুজনের সংসার চালান এবং ঋণের কিস্তির টাকা দেন। কিন্তু গত বুধবার বিকেলে হাঁসদিয়া চর থেকে তাঁর ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখুঁজি করেও আর পাননি তিনি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য, ভ্যানই ছিল তাঁর একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। ভ্যানটি হারিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তাঁর স্ত্রী শেফালী খাতুন দুচোখের জল ছেড়ে দিয়ে বলেন, ওই ভ্যানই আমার সব। ভ্যান চালিয়েই প্রতিদিন চাল - ডাল কিনতেন। দুদিন ধরে বাড়িতে চাল নেই। প্রতিবেশীরা যা দিচ্ছেন, তাই খাচ্ছেন তাঁরা। এখন খাব কি? আর লোন ( ঋণ) দিব কিরে! আপনারা আমার একটা ভ্যান কিনে দেন।
যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি পরিবারটির খোঁজ নিয়েছেন। ভ্যানটি হারিয়ে তাঁরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি পরিষদ থেকে সাধ্যমত সহযোগীতা করবেন। তাঁর ভাষ্য, সবাইকে এগিয়ে আসা উচিৎ।
কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





