ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক লিখিত জবাবে তিনি সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং মালয়েশিয়ার ১৯৯২ সালের প্রত্যর্পণ আইনের বিধান অনুসারেই জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে নতুন কোনো প্রত্যর্পণ আবেদন পায়নি মালয়েশিয়া সরকার।
পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির এক প্রশ্নের জবাবে সাইফুদ্দিন জানান, ভারত সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে নয়াদিল্লি।
জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়।
ভারতে অর্থপাচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগে জাকির নায়েককে খুঁজছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে ভারত।
তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
সূত্র: দ্য স্টার (The Star)





