জামালপুর পৌর শহরের পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট ও জোড়পূর্বক জবর দখলের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম জনির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও অভিযুক্ত ওই আওয়ামীলীগ নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (৩০সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে পৌর শহরের পুরাতন ফেরিঘাট বাইপাস মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বিক্ষোভকারীরা ময়মনসিংহ-জামালপুর সড়ক অবরোধ করে মিছিল এবং ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগ নেতার কুশপুত্তলিকাদাহ করেন। অভিযুক্ত ভূমিদস্যু জাকিরুল ইসলাম জনি পৌর আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং শহরের ছনকান্দা এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে।
ঘন্টা ব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী তাপস আহাম্মেদ, তার সহধর্মীনি সুমা আহাম্মেদ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম জনি দলীয় প্রভাবে ফিল্ম স্টাইলে তাপস আহাম্মেদের দোকানপাট বেকু দিয়ে ভাংচুর, লোটপাট ও জমি জবরদখল করার চেষ্টা করেন। তাপসের দোকানের ভাড়াটিয়াদের কোন নোটিশ না করেই দোকানপাট ভাংচুর করেন। ভাংচুরের বিষয়ে বলতে গেলে তিনি তাপস আহাম্মেদ, তাঁর সহধর্মিনী সুমা ও তাদের কর্মচারী সুলতানকে মারধর করেন। এ সময় তাপস আহাম্মেদের কর্মচারী সুলতানকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগ নেতার জামিন না-মঞ্জুর করে শাস্তির দাবি জানান বক্তরা। পরে বিক্ষোভকারীরা ময়মনসিংহ-জামালপুর সড়ক অবরোধ করে মিছিল এবং আওয়ামী লীগ নেতা ভূমিদস্যু জাকিরুল ইসলাম জনির কুশপত্তলিকাদাহ করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৭সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় তাপস আহাম্মেদের দোকানপাট ভাংচুর, লোটপাট করে জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম জনি। পরে এ ঘটনায় তাপস আহাম্মেদ বাদী সন্ধ্যার দিকে ভূমিদস্যু আওয়ামীলীগ নেতা জাকিরুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে পরে ওই দিন রাতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি জাকিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে ওই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





