Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

আখাউয়ায় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল স্থলবন্দর

admin • 21 Aug 2024, 04:55 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
আখাউয়ায় পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল স্থলবন্দর

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সীমান্তবর্তী হাওড়া বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩০টির বেশি পরিবার। পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে আখাউড়া স্থলবন্দর, ভেঙে গেছে সেতু, বন্ধ রয়েছে আখাউড়া-আগরতলা যান চলাচল।

 

মঙ্গলবার রাতে মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির গতি বেড়ে একের পর এক গ্রাম পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। ভোরে ভেঙে যায় আখাউড়া-আগরতলা সড়কের গাজীরবাজার এলাকার অস্থায়ী সেতু। এতে বন্ধ হয়ে যায় আখাউড়া-আগরতলা যান চলাচল।

এদিকে খবর পেয়ে বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি।

স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দু’পাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর ও মোগড়া এলাকায় হাওড়া বাঁধ ভেঙে বাউতলা, উমেদপুর, নীলাখাত, নয়াদিল, টানোয়াপাড়া, নোয়াপাড়া, নুনাসার, বচিয়ারা, ধাতুর পহেলা, কুসুম বাড়ি, আদমপুরসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ওইসব গ্রামের ফসলি জমি, সবজি খেত ও ছোট বড় অসংখ্য পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ২টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০ হেক্টর জমি ও অর্ধশতাধিক পুকুর বানের পানিতে ভেসে যায়। তবে ওইসবের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক পরিমাণ নিরুপণ করতে সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

মাছ চাষি মো. আলম মিয়া বলেন, এ বছর ২টি পুকুর ইজারা নিয়ে নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। পুকুর ইজারা, মাছের পোনা, খাবারসহ তার প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে সব মাছ ভেসে যায়।

উপজেলা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বুধবার ভোর থেকেই ভারতীয় পানি প্রবল বেগে ঢুকতে থাকে। পানির গতি বেশি থাকায় আখাউড়া-আগরতলা সড়কের গাজীরবাজার এলাকায় অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর আশপাশসহ পুরো বন্দর এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও হাওড়া বাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন মিলে বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত করছেন। তাছাড়া সেতু মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। পানি ঢুকে পড়া গ্রামে যাদের বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণ, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।