রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রিয়া আক্তার নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মরদেহটি ফেলে গৃহবধূর স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে গেছেন।
নিহত রিয়া আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার নলডুবি গ্রামের জাকির ফকিরের মেয়ে ও তেনাপঁচা গ্রামের মিন্টু শেখের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গোয়ালন্দর নলডুবি গ্রামের জাকিরের মেয়ে রিয়ার (১৬) সঙ্গে তেনাপঁচা গ্রামের ফজের আলীর ছেলে মিন্টুর (২৫) ছয় মাস আগে বিয়ে হয়।
এরই মাঝে রিয়া সন্তান সম্ভবা হয়। পরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে কর্মস্থল ঢাকায় চলে যান মিন্টু। এরপর রিয়াকে নির্যাতন শুরু করেন শাশুড়ি জমিলা বেগম। নির্যাতনের ফলে রিয়া বাবার বাড়িতে চলে যায়।
খবর পেয়ে এক সপ্তাহ আগে মিন্টু বাড়ি আসেন। শ্বশুর বাড়ি থেকে রিয়াকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রিয়া। পরে মিন্টু ও তার মা রিয়াকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে চিকিৎসক গৃহবধূকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালে ফেলে মা-ছেলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের বাবা জাকির ফকির বলেন, ‘প্রতিদিন রিয়ার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। আজ সকালেও রিয়া মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে।
আমার মেয়েটা এভাবে মরতে পারে না।’ গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আঁখি বিশ্বাস জানান, গৃহবধূ চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা গেছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।





