রাজধানী তেজগাঁও এলাকায় গতকাল রোববার মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় আলী হোসেন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। নিহতের ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার বিশ মাইল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চালকের নাম জিয়াউল হক (৫০)। মাইক্রোবাসটিকেও জব্দ করা হয়েছে।
চালককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার ৩৭টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে একটি ফুটেজ দেখে ওই গাড়ি শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িটি স্বাভাবিক গতিতে মহাখালীর দিক থেকে তেজগাঁওয়ের দিকে আসছে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ একটা শব্দ শুনতে পান এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। ওই পুলিশ সদস্যের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি খুব দ্রুতগতিতে চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চালক তাঁর মুঠোফোন বন্ধ করে আশুলিয়ায় গিয়ে আত্মগোপন করেন।
গাড়িটি রাজস্ব বোর্ডের কি না, জানতে চাইলে উপকমিশনার আজিমুল হক বলেন, চালককে গ্রেপ্তারের পর মাইক্রোবাসের মালিকের নাম পাওয়া গেছে।
নিহত স্কুলছাত্র তেজগাঁওয়ের সরকারি বিজ্ঞান হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আলী হোসেন পরিবারের সঙ্গে তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকত। ঘটনার পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বাবা।
তাজোয়ার রহমান নামের নিহত আলী হোসেনের এক বন্ধু গণমাধ্যমকে বলেন, একটি গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার পর আমার বন্ধু ১৫ মিনিটের মতো রাস্তায় পড়ে ছিল। কেউ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হলে আলী হোসেন হয়তো বেঁচে যেত।
এদিকে সহপাঠী হত্যার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজ ফার্মগেটে সড়ক অবরোধ করেছে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ব্যানারে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। এতে ফার্মগেটের পূর্ব পাশের রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।





