Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
মতামত

শৈশব ও বৈষম্য

admin • 16 Feb 2024, 03:29 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
শৈশব ও বৈষম্য

আমাদের সমাজে একটা জিনিস মানুষকে শিখতে হবে। একজনকে ভালো বলতে তার পাশে থাকা মানুষকে মন্দ না বললেও চলে। একজন পরিশ্রমি হলে অপর জন অলস হয়ে যায় না। একজনকে প্রতিষ্ঠিত বললে অন্যকে অপ্রতিষ্ঠিত বলাটা উচিত নয়। একটা বাচ্চাকে শান্ত বলার পর, পাশের জনকে চঞ্চল বলার প্রয়োজন নেই।

দুঃখ হলেও সত্যি যে সমাজ এর বেশিরভাগ মানুষ এভাবে প্রতিনিয়ত অন্যকে ছোট করে আসছে। আমাদের সমাজে একটি শিশু জন্মের পর থেকে তুলনা নামের একটা সামাজিক রোগে আক্রান্ত হয়। এর ফলে কিছু শিশুর মনোবল শুরুতেই দুমড়ে মুচড়ে যায়।

ছবি: রাশিনুর রহমান-দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

স্কুলে ভাল ফলাফল না আসলে পরিবার এবং আশেপাশের সকলে ধরেই নেয় তার জীবনে সে ভাল কিছু করতে পারবে না। এই ছোট মন থেকেই তাকে একটি অবিশুদ্ধ সমাজে বড় হতে হয়।

এখন আর শিশুদের কোন শৈশব নেই। কোচিং এর সময়ে, বিকেল বেলার খেলার সময়টা হারিয়ে গেছে, বন্ধু তৈরি করার সময় টায়, ইংলিশ এর গ্রামার স্যার নিয়ে নিছে।

প্রকৃতি উপভোগ করার এবং জানার সময় টা, অংক ক্লাসটা নিয়েছে।

এই সমাজে উদ্যোক্তাদের এখনও তেমন সম্মান নেই। সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল না হতে পারলে, সেই সন্তান সফল নয়। আবার ঠিক ডাক্তার, উকিল, ইঞ্জিনিয়ার হলেও তার আয় আশানুরূপ না হলে তাকেও এই সমাজ বিফল বলবে।

আমাদের বেশিরভাগ পরিবারের বাবা-মায়েরা আর বলে না ভাল মানুষ হতে হবে, শুধু বলে সফল হতে হবে। তাই এখনকার ছেলেমেয়ে গুলো শুধু নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে লড়াই করে যাচ্ছে।

ছবি: রাশিনুর রহমান-দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়

এছাড়াও প্রতিনিয়ত একটা শিশুকে তার গাঁয়ের রং, মাথার চুল, উচ্চতা, মোটা, এই আরও অনেক শারিরীক তুলনার মধ্যে পরতে হয়। এই তুলনার ভয়ে, প্রতিনিয়ত বিচারের কাঠগড়ায় যাতে না দাড়াতে হয় অনেক বাচ্চারাই আর আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে তেমন সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তেমন মেলামেশা করতে চায় না। মনের কথা বলতে এই পুরো একটা প্রজন্ম ভয় পায়।

আমাদের সকলের এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিবর্তন করতে হবে। সমাজ থেকে এই বিষাক্ত প্রতিযোগিতা দূর করতে হবে।আমাদের সমাজে একটা জিনিস মানুষকে তাই শিখতে হবে।।।

  লেখক: অনামিকা ইসলাম,প্রকাশক ও সম্পাদক, দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।