জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিত্যক্ত সুইমিংপুল বর্তমানে যেনো মাদকাসক্ত আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় রূপ নিয়েছে। প্রশাসনিক অযত্ন আর অবহেলায় দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জাবির শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পাশে অবস্থিত একমাত্র এ সুইমিং পুলটি। এর তলানিতে জমে থাকা বৃষ্টির নোংরা পানিতে ভেসে বেড়ায় পলিথিন, প্লাস্টিক, কাগজসহ নানা আবর্জনা। এছাড়াও আশপাশে দেখা যায় নানান জন্ম নিয়ন্ত্রক ঔষধের প্যাকেট পড়ে রয়েছে। যা দেখে মুহূর্তেই ক্যাম্পাস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মে নবীন শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে।
পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত নির্জন ও জঙ্গলাকীর্ণ এই জায়গাটিতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এটি হয়ে উঠেছে মাদকসেবীদের আস্তানা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া।
জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সুইমিং পুল নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৪২ লাখ টাকা। তবে ওই অর্থের পুরোটাই পুলে ব্যয় না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামো, যেমন মুক্তমঞ্চ নির্মাণে খরচ করা হয়। ফলে নির্মাণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। নেই পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, দেয়াল কিংবা ছাদ। সেই অসমাপ্ততা থেকেই শুরু হয় অবনতি। নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সুইমিংপুলটি কার্যকরভাবে কখনোই চালু হতে পারেনি।
মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পুলে পানি দিলে তা দু’দিনেই নিষ্কাশিত হয়ে যেত। জমতো শেওলা, ছড়িয়ে পড়ত দুর্গন্ধ। ১৯৯৬ সালে বাধ্য হয়ে পুলে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এরপর থেকেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এর তলানিতে জমে থাকা বৃষ্টির নোংরা পানিতে ভেসে বেড়ায় পলিথিন, প্লাস্টিক, কাগজসহ নানা আবর্জনা।
এদিকে এলাকাটি অপেক্ষাকৃত নির্জন ও জঙ্গলাকীর্ণ হওয়ায় চুরি, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় নারী শিক্ষার্থীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে এখানে। সন্ধ্যার পর এ জায়গা রূপ নেয় মাদকাসক্তদের ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বিশ্বায়নের এই যুগে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুইমিং পুল না থাকাটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এরকম পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকাটা কাম্য নয়। এতে করে একদিকে যেমন আমরা এটির সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, অন্যদিকে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জাবির শিক্ষার্থীরা সাঁতারে এগিয়ে যেতে পারছে না। আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় মানের কোনো সাঁতারু তৈরি হতে পারছে না।'
তারা আরও বলেন, 'সুইমিংপুলের আশেপাশে বিভিন্ন জন্ম নিয়ন্ত্রক ঔষধের প্যাকেটসহ এমন অনেক কিছু পড়ে থাকে যা দেখে বাইরের মানুষের মনে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাই।'
সার্বিক বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক সুজিত কুমার ব্যানার্জী বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত রয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন জায়গায় আমাদের নতুন যে 'স্পোর্টস কমপ্লেক্স' তৈরি হচ্ছে আমাদের সবকিছু সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে সুইমিংপুলও করা হবে। কাজেই বর্তমানে যে পুলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এটি নতুন করে সংস্কারের প্রয়োজন নেই।
সুইমিংপুল সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান জেফরুল হাসান চৌধুরী (সজল) বলেন, সুইমিংপুল এলাকায় আমাদের নির্দিষ্ট কোনো সিকিউরিটি গার্ড নেই। আমাদের লোকবল সংকটের কারণে সেখানে নির্দিষ্ট কাউকে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এই এলাকায় মাঝে মাঝে প্রক্টর স্যারকে নিয়ে টহলে যাই এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাদের জানানোর সাথে সাথেই আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
সোহাগ/মিরর





