Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশকে জাবিতে ঘাটতি বাজেট ১০০ কোটিতে

Sohag Shah • 29 Jun 2025, 01:36 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশকে জাবিতে ঘাটতি বাজেট ১০০ কোটিতে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গতকাল ২৮ জুন ৪২ তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশকে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ পৌঁছাবে ১০০ কোটিতে।

শনিবার (২৮ জুন) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪২-তম বার্ষিক অধিবেশনে উপস্থাপিত বাজেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অধিবেশনে সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুর রব ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিনেটরদের ভোটে বাজেটটি অনুমোদিত হয়।

এ অধিবেশনে উপস্থাপিত চলতি বছিরের মূল বাজেট এবং গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ যথাক্রমে ৩২৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ও ৩৩৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা। গত বছরের ন্যায় চলতি অর্থবছরেও মোট বাজেটের অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয়ে।

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের ঘাটতি বাজেট ছিল ১৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৯ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা এবং ২০২১—২২ অর্থবছরে  ঘাটতি ৩ কোটি ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।

উপস্থাপিত চলতি অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেতন-ভাতা বাবদ ১৮১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ৫৬.২৪ শতাংশ।এ বছর বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ বেড়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পণ্য ও সেবা (সাধারণ আনুষঙ্গিক) খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ২২.৩৫ শতাংশ। এ খাতে গত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৭০কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এদিকে পেনশন ও অবসর খাতে ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ১১.৯৯ শতাংশ। অন্যান্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা, মোট বাজেটের ১.৩১ শতাংশ। যন্ত্রপাতি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা মোট বাজেটের ১.৭৭ শতাংশ। যানবাহন ক্রয় বাবদ ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ০.৭১ শতাংশ। অন্যান্য মূলধন বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ০.১৫ শতাংশ।

গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে মোট বাজেটের শতকরা ২.১৪ ভাগ (৭ কোটি ২৪লক্ষ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাজেটের শতকরা ০.৪৪ ভাগ (১ কোটি ৫০ লক্ষ) বরাদ্দ ছিল । যা এবার বাড়িয়ে গবেষণা খাতে বাজেটের ২.৮৫% (৯কোটি ২৩ লক্ষ) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বাজেটের ০.৬৮% (২কোটি ২০লক্ষ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু খাতে কমানো হয়েছে বরাদ্দ। পণ্য ও সেবা (রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত) খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। যা, মোট বাজেটের ১.৮০ শতাংশ। এ খাতে গত বছরের বাজেট ছিল ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা, মোট বাজেটের ০.১৪ শতাংশ। গত বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি টাকা। এছাড়া পেনশন ও অবসর সুবিধা বাবদ গত অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এবছরে ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকা কমিয়ে ৩৮কোটি ৭৭ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিনেটর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, আজকের এই বাজেট বর্তমান সরকারের শিক্ষা খাতে অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। সরকার বিভিন্ন বিষয় সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনি। নতুন অর্থ-বছরের বাজেটেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ খুবই নগণ্য। এ বাজেটটি শিক্ষার্থীবান্ধব হয়নি। এছাড়াও তিনি সিনেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি (জাকসু নির্বাচিত ৫ জন সদস্য) না থাকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই অধিবেশনকে অবৈধ বলে সম্বোধন করেছেন।

এছাড়াও পরের সিনেট অধিবেশনগুলোতে যেন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি থাকে এজন্য অতিদ্রুত জাকসু নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে কিছুটা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বাজেটের বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, ২০২৪-২০২৫ সনের সংশোধিত বাজেটের জন্য ৪১৫ কোটি ৭৮ লক্ষ ১ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ সনের ৪৩৪ কোটি ৪৬ লক্ষ ১৯ হাজার টাকার মূল বাজেট ইউজিসিতে পাঠানো হয়। ইউজিসি ২০২৪-২০২৫ সনের সংশোধিত বাজেটে ৩৩৭ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা এবং ২০২৫-২০২৬ সনের মূল বাজেটে ৩২৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিলে ঘাটতির পরিমান ৮০ কোটি ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। চলতি অর্থবছরে সর্বনিম্ন আনুমানিক ২০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। এরূপ আর্থিক চাপের মধ্যে একটি কল্যাণমুখী বাজেট প্রস্তুত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে হিসাব অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ব্যতীত গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি, গাড়ি ভাড়া, রোড ট্যাক্স ইত্যাদি বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও জাবি স্কুল ও কলেজের জন্য কোন অর্থ বরাদ্দ পাওয়া না গেলেও এই প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি অর্থবছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই দুটি খাত আমাদের বাজেট ঘাটতি ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলেছে। এর বিপরীতে আমাদের অভ্যন্তরীণ আয়ের তেমন কোনো খাত নেই।

   

সোহাগ/মিরর

 
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।