জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে ‘One Health Assessment of Emerging Antimicrobial Resistance Genes in Bangladeshi Livestock, Feeds and Manure’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স এবং ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারের অর্থায়নে এ সেমিনারটি আয়োজিত হয়।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ট্রেজারার অধ্যাপক রাশেদা আখতার ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নূহু আলম। প্রজেক্টের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম ও সহকারী তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. শামসুন নাহারের তত্ত্বাবধানে ২০২০-২১ অর্থবছরে পঞ্চান্ন লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোল্টি্র ফিড, গোবর এবং জৈব সারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত নমুনা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া পৃথকীকরণের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক (বিটা ল্যাকটাম, কাবোর্পেনেম, কোলিস্টিন) এর প্রতি সহনশীল। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা গেছে, যেসকল ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার আগে থেকেই লক্ষণীয় ছিল, সেসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সহনশীলতা বেশি দেখা গেছে। আরটি-পিসিআর নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অতি সূক্ষ্মভাবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের সহনশীল ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এর মাধ্যমে জীন উপস্থিতি শনাক্তকরণ ছাড়াও আণবিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রয়োগ-প্রোটিন শনাক্তকরণ, মিউটেশন, অণুজীবের উপস্থিতি অতি স্বল্প সময়ে সম্ভবপর হয়েছে।’
গবেষকরা জানান, এই গবেষণা কাজের প্রাপ্ত তথ্য বিভিন্ন কনফারেন্স পেপারে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। গবেষণা কাজের অংশ হিসেবে একজন পিএইচডি গবেষণা শিক্ষার্থীসহ এম. ফিল. এবং দশজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তাদের গবেষণা কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। লাইভস্টোক এর মোট ২৪০টি নমুনা থেকে ৩০টিরও বেশি জেনাসসহ মোট ২২৫টি ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণ হয়েছে। মানুষের মোট ১১০টি নমুনা (ডাইরিয়াল নমুনা) থেকে ৩০টিরও বেশি জেনাসসহ ১৪০টি ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণ হয়েছে। প্রাপ্ত ব্যাকটেরিয়াগুলো মোট নয়টি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ২০টি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি ‘অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাসসেপটিবিলিটি টেস্ট’ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি সহনশীল। এমনকি শেষ প্রতিরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে বিবেচিত যেমন কার্বাপেনেম, কোলিস্টিনের প্রতি কিছু ব্যাকটেরিয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি সহনশীল। আরটি-পিসিআরসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যাকটেরিয়া থেকে ১৯টিরও বেশি আন্টিবায়োটিক সহনশীল জীন পাওয়া গিয়েছে।
সেমিনারে আদ্ব-দীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রধান ড. কাজী সেলিম আনোয়ার বলেন, গবেষণার প্রাপ্ত নমুনা সাভারের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট; অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্ট জানার জন্য সমগ্র বাংলাদেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা উচিত।
অন্যদের মধ্যে ওয়ার্ল্ড হেলথ্ এর পোস্ট ডক্টরাল ফেলো ড. সাবরিনা হোসাইন বলেন, ‘গবাদিপশুর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ইতিহাস এবং রেজিস্ট্যান্ট জীনগুলো কোন প্রক্রিয়ার স্থানান্তর হচ্ছে শনাক্তকরণ করা জরুরি।’ এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।





