বিশ্বকাপ শুরু হতেই দুইটি অঘটন ইতিমধ্যে ঘটে গিয়েছে। আর্জেটিনা এবং জার্মানি এই দুই বিশ্ব জায়ান্ট একই ব্যবধানে হেরেছে এশিয়ার দুই প্রতিপক্ষ যথাক্রমে সৌদি আরব ও জাপানের কাছে। এই সংখ্যা আরো বাড়বে।
মাঠের ফল কেনো নাজুক?
প্রথমত কাতার মুসলিম রাষ্ট্র। বিশ্বকাপ আয়োজক হলেও তারা সকল ইসলামি পরিবেশ বজায় রেখেছে। যেমন এ্যালকোহল নিষিদ্ধ, ইউরোপীয় দর্শকদের উলঙ্গ পোশাক, বা অর্ধনগ্ন পোশাক নিষিদ্ধ, ধুমপান নিষিদ্ধ, গ্যালারী তে কিস জাতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ। সমকামীতা, অশ্লীল নৃত্য সবই নিষিদ্ধ।
সবকিছু মিলিয়ে ইউরোপীয়রা যে পরিবেশ দেখতে দেখতে অভ্যস্থ তার সবকিছুই নিষিদ্ধ কাতার বিশ্বকাপে। এই নতুনত্বের সাথে দর্শকরা যেমন খাপ খাওয়াতে পারছেনা ঠিক তার প্রভাব মাঠের খেলায় পড়ছে।
স্বাভাবিকভাবেই নতুন পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন হয়। যেই সময় খেলোয়াড়দের হাতে নেই। ফলে তারা তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারছেনা।
এ্যালকোহল যাদের খাদ্যতালিকার প্রথম মেনু সেটি ছাড়া খেলতে নেমে ইউরোপীয়রা শরীরে শক্তি পাচ্ছেনা।
দ্বিতীয়ত ইউরোপীয়রা তীব্র শীতের মধ্যে খেলে বেড়ায়। সেখানে মরুর দেশ কাতারের তীব্র গরম অসহনীয় হয়ে।পড়ছে ইউরোপ এর কাছে। মাঠে ফলাফল আনতে পারছেনা।
তৃতীয়ত ইউরোপীয়রা সারা বছর ঘরোয়া লীগ খেলে বেড়ায়৷ কমবেশি সব মাঠ সকলের পরিচিত থাকে৷ সেখানে নতুন অবকাঠামোয় তৈরি কাতারের নতুন মাঠের মাপ বুঝতেও হিমশিম খাচ্ছে।
এসব দিক বিবেচনায় আমার মতে ইউরোপীয়/ ল্যাটিন দের থেকে এশিয়ান রা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে৷ আমার বিশ্বাস এবার সেমিফাইনালে এশিয়ান কাউকে দেখলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা।
শিবলী মাহাদী, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক,ডেইলী মিরর অফ বাংলাদেশ





