Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

শব্দদূষনে রাবির শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত ,বিপাকে শিক্ষার্থীরা

admin • 21 Jan 2025, 06:35 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
শব্দদূষনে রাবির শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত ,বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিবছর পড়াশোনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান ৭৫৩ একরের এই ক্যাম্পাসটিতে। তবে গত কয়েক বছরে এখানে শব্দ দূষণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ টি একাডেমিক ভবন এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই যেন এসব শব্দদূষণ বেশি হয়। রিক্সা, প্রাইভেট কার কিংবা মোটর সাইকেলের হর্ণ ক্লাসরুমগুলোর সুষ্ঠু পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও নির্মাণকাজ,অতিরিক্ত যানবাহন, মিটিং-মিছিল, বিভিন্ন উৎসব, কনসার্ট এবং আবাসিক হলের আশেপাশে উচ্চসাউন্ডে গান বাজিয়ে পিকনিক এই দূষণকে তীব্র থেকে তীব্রতর করছে। যা পড়াশোনার পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

 

গ্রন্থাগারে পড়তে যাওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ দিগন্ত বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে শব্দদূষণের পরিমান এতই বেশি যে এমতাবস্থায় পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ রাখা সম্ভব নয়। আমরা যারা লাইব্রেরি তে পড়াশোনা করি তাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এই ভোগান্তির শিকার। আবার একদিকে আন্দোলন সংগ্রাম লেগেই থাকে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে কিন্তু সেটা লাইব্রেরি কেন্দ্রিক না হয়ে অন্য জায়গায় হলে ভালো হয়। অবশ্যই চাইবো প্রশাসন যেন এই বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নেয়।

 

শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাত বলেন,আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের হবিবুর হলের খেলার মাঠে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করেও কিছু বিভাগ, ক্লাব ও জেলা সমিতি উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে পিকনিক করে। তারা সাধারণত শুক্রবার, শনিবার এই পিকনিক করে থাকে আর আমাদের হলের অনেকের পরীক্ষা থাকে রবিবার। অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই সাধারণত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পড়াশোনা করে। আর এই সময়গুলোতেই তারা উচ্চ শব্দে গান বাজাতে থাকে, যার কারনে আমাদের পড়াশোনায় মনযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

শব্দদূষণের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে রাবি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চীফ সাইকোলজিস্ট মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব বলেন, শব্ দূষণের প্রভাব আমাদের সবার উপরই পড়ে৷ বিশেষত, শিশু- বৃদ্ধ এবং প্রাণী এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুস্থভাবে বেচে থাকার জন্য আমাদের সুন্দর পরিবেশ প্রয়োজন৷ শব্দদূষণ আমাদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা ছাড়াও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়৷ একটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শব্দের তীব্রতার পরিমাণ ৪৫ ডেসিবেল পর্যন্ত হওয়ার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই ক্যাম্পাসে এর পরিমাণ অনেক বেশি। আমি আশাবাদী প্রশাসন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশেষ করে গত কনসার্টের পর থেকে আমরা শব্দ দূষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি। আমরা এমন কোনো স্থানে কোনো কার্যক্রমের অনুমতি দিই না, যা শিক্ষার ক্ষতি করে। শব্দ দূষণের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা যখন শব্দ দূষণের শিকার হয়, তখন এর ক্ষতিকর দিকগুলো উপলব্ধি করে। তবে নিজেরা যখন শব্দ দূষণ তৈরী করে তখন আমরা তাদের বোঝাতে ব্যর্থ হই। তবে এখন থেকে হবিবুর, ইবলিশের মাঠে পিকনিকের সময় সাউন্ড সিস্টেম বাজানো হলে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী গুরুতর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মুনান/ মিরর 
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।