রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারটি আবাসিক হলে রাতের আঁধারে কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে এই ঘটনা ঘটে।
হলগুলোর আবাসিক শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করার পর প্রতিদিনের মতো বুক সেলফ থেকে কোরআন নিয়ে তেলাওয়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দেখেন, দুটি কোরআন শরীফের প্রথম দিকের দুটি সূরা এবং শেষের দিকের দুটির সূরা পোড়ানো। কোরআন দুটির হার্ড কভার সহ প্রথমে ও শেষের কিছু পৃষ্ঠা এবং মাঝখানের ৭০ শতাংশ মত পৃষ্ঠা অক্ষত রয়েছে।
এছাড়া, হলের ৩য় ব্লকের প্রথম তলার সিড়ি বরাবর এবং ২য় ব্লকের ৪৩৪ নম্বর কক্ষের সামনের দেয়ালে পদ্মফুলের ছবি আকানো দেখা গিয়েছে। পদ্মফুল ইসকনের প্রতীক এবং ভারতীয় জনতা পার্টি'র (বিজেপি) নির্বাচনী প্রতীক। তাছাড়া ওই কক্ষের জানালায় ইসকন ইয়ুথ ফেস্টিভালের লিফলেট সাটানো দেখা গেছে। তবে রুমটি তালাবদ্ধ থাকায় কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সৈয়দ আমীর আলী হলে একটি কোরআনের প্রথম দুই-তিন পারার মতো পুড়িয়ে হলের মুক্তমঞ্চে রাখা ছিল। সকালে সেটা দেখতে পায় শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সৈয়দ আমীর আলী হলে কোরআন পোড়ানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পড় ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর কিছুসময় পর শোনা যায় শহীদ হবিবুর রহমান ও মতিহার হলেও কোরআনা পড়ানো হয়েছে।
ওই দুই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, অন্যান্য হলে কোরআন পোড়ানোর খবর শুনে শহীদ হবিবুর রহমান হলের মসজিদের বুকসেলফে খোঁজ নিতে যান মসজিদের খাদেম মজিবুল ইসলাম। সেখান থেকে তিনি একটি পোড়ানো কোরআন উদ্ধার করেন। তবে, কোরআনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়নি। অন্যদিকে মতিহার হলের প্রথম ব্লকের ছাদে কাগজের ছাই দেখতে পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ছাইয়ের পাশেই কোরআন শরীফের কয়েকটি ছেড়া পাতা পড়ে ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, একসাথে কয়েকটি হলে ঘটানো এই ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, কোনো গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এটা করেছে। বিষয়টা অনেক হৃদয়বিদারক। এটি উস্কানিমূলক ঘটনা হতে পারে। কোনো একটা গোষ্ঠী ক্যাম্পাসে দাঙ্গা বাঁধানো বা, ফ্যাসাদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা চাচ্ছে যে একটা অশান্তি বা অরাজকতা তৈরি হোক। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের উদঘাটন করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে দুপুর ১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাজী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোরআনের অবস্থান প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অনেক উপরে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করবো। পাশাপাশি হল প্রশাসন থানায় অভিযোগ জানাবেন। জড়িতদের খুজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো আমরা। তবে, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা বিশেষ আহ্বান জানাবো, তারা যেন কোনো উসকানির ফাঁদে না পা দেয়।
মুনান/ মিরর





