Tuesday, 20 October 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

মহাসড়কে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, আটকে আছে যানবাহন

• • পঠিত 11 বার
শেয়ার করুন:
মহাসড়কে গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, আটকে আছে যানবাহন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্য, সাংবাদিক এবং বিএনপি নেতাসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

 

সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

 

ওই এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গার হামেরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার প্রায় ১১ গ্রামের সঙ্গে পাশের একই উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুকুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

 

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কালাম পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এর জের ধরে আজ রোববার সকাল ৭টার দিকে মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের লোকজন পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ সাড়ে ৭টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ওই সময় ওই আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

এরপর দুই পক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুইপক্ষই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে পুনরায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। এর মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর ও হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে আজ সকালে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সংঘর্ষ ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন বলেন, আমাদের টিম ঘটনাস্থলে আছে। তবে শত শত গ্রামবাসী মহাসড়কে উঠে পড়ায় আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।