চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু হত্যা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মাসুদুর রহমান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সিআইডির প্রতিনিধিদল জীবননগরে পৌঁছে ডাবলুকে আটকের স্থান এবং তাকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে উল্লেখিত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। পরে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় নিহত ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে ডাবলুকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল হেফাজতে নেয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে তখন জানা যায়।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। পরদিন সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গায় নেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তে ডাবলুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মরদেহে পাওয়া দাগের মিল রয়েছে এবং সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ঘটনায় প্রায় পাঁচ মাস পর গত ১৯ জুন আদালতে নয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন সৌমিকসহ আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
ডাবলুর স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি মাসুম সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।” এদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ও বিএনপি নেতাকর্মীর।





