Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

পোষ্য কোটা বাতিল না হলে রোববার থেকে রাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

admin • 02 Jan 2025, 08:13 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
পোষ্য কোটা বাতিল না হলে রোববার থেকে রাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সব ধরনের পোষ্য কোটা বাতিল না হলে রোববার থেকে কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার।

 

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে সকাল ১০টা থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে দুই উপ-উপাচার্যসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের পাশাপাশি বহিরাগত শিক্ষার্থী থাকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাবির ১৭ জন সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়কের মধ্যে শুধু সালাহউদ্দিন আম্মার একাই আন্দোলনকারীদের সাথে রয়েছেন। আন্দোলনে শতাধিক শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এরমধ্যে বড় একটা অংশ রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। ফলে বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। আবার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কামরুজ্জামান কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত বিভা, বারিন্দ মেডিকেল কলেজের মাহফুজা রাহাত, বেলপুকুর কলেজের সুস্মিতা, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্মী, আদর্শ অনার্স ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শুভ্র ও রাজশাহী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসনিমসহ প্রায় ৩০জন বহিরাগত শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, পোষ্য কোটা আসলেই থাকা উচিত না। কিন্তু এইভাবে আন্দোলন চলমান রাখলে আমাদের সেশন জট আরও বাড়বে। আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কতজন যোগদান করেছে? বহিরাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন চলমান যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা সন্দিহান। সালাউদ্দিন আম্মার একাই নেতৃত্ব দিচ্ছে এই আন্দোলনের। এখানে অন্যান্য সমন্বয়করাও নেই।

 

কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানায়। আমরা গতকাল রাতেই এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েই প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়েছি। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা রাখার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা প্রথা একটা হাস্যকর বিষয়। অবিলম্বে পোষ্য কোটা বাতিল করে মেধাবীদের মুক্তি দিতে হবে। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে পোষ্য কোটা বাতিল করা না হলে রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন করা হবে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোও ক্যাম্পাসের বাহিরে যেতে দেওয়া হবে না।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করতেই পারে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাপ আলোচনার বিকল্প নেই। বিষয়টি সমাধানে আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলব। কারণ এ ধরনের কর্মসূচি পালিত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা। আমরা চাই না আমাদের কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হোক।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।