Sunday, 4 October 2026
শিরোনাম
জাবিপ্রবিতে ইউজিসি সদস্যের নিকট ২১ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি প্রদান মিড-ডে মিলে আসছে কুপন, খাবার পছন্দ না হলে ‘টাকা থাকবে’ শিক্ষার্থীর কাছে পাঠ্যবই ছাপায় অনিয়ম করলে পরের বছর কাজ মিলবে না : শিক্ষামন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সালাহউদ্দিন আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল: রাশেদ খাঁন দুবাই পালানোর সময় ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ রুবেল গ্রেপ্তার জাবিপ্রবিতে প্রথম বৃহৎ একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত আমির হামজার জন্য তোরণ বানাতে ‘ন্যাড়া’ করা হলো ১৫ বছরের বকুলগাছ দিনাজপুরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার পূর্বাচল ৩০০ ফিটে উচ্ছেদ অভিযান, সরানো হলো ২০ বিলবোর্ড জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স হালনাগাদের সুযোগ, সময় ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত
আর্ন্তজাতিক

পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...

• • পঠিত 7 বার
শেয়ার করুন:
পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে জেলের শরীরে ‘বাসা বাঁধল’ বাইম মাছ, অতঃপর...
ছবি সংগৃহিত

২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের শরীরে জীবন্ত বাইম মাছ প্রবেশের ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাছটি তার পায়ুপথ দিয়ে শরীরে ঢুকে অন্ত্রের দেয়াল ফুটো করে মারাত্মক সংক্রমণ সৃষ্টি করে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস-এ এ বিরল ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।

 

 

জার্নালে প্রকাশিত কেস রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ শরীরে ঢুকে যায়। বিষয়টি নিয়ে লজ্জায় তিনি প্রথমে কাউকে জানাননি। মাছটি নিজে থেকেই বের হয়ে যাবে— এমন আশায় ছিলেন তিনি। পরে তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে যান।

 

 


বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পায়, মাছটি অন্ত্রের দেয়াল ভেদ করেছে এবং পেটে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা জীবন্ত বাইম মাছটি বের করে আনেন চিকিৎসকরা।

 

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায় ও মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা। তাদের কেস রিপোর্টে বলা হয়, বাইম মাছের মতো জীবন্ত প্রাণীর কারণে মানুষের অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

 

 

অস্ত্রোপচারে দেখা যায়, রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আকারের একটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রাণঘাতী পেরিটোনাইটিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি কোলস্টমি করেন। এতে রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয় এবং চার দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

 

 

এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করালে তারও গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়।

 

 

চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগীরা অনেক সময় লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিকিৎসকদের কাছে গোপন করেন। এতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক কারণগুলোকেও বিবেচনায় রাখা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচার না হলে এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। 

 

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।