জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালটির শিক্ষার্থীরা ৷ মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) ‘শিক্ষার্থীবৃন্দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ব্যানারে দ্বিতীয় দিনের মতো তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৷
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, ‘দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন, কবে দিবে প্রশাসন?’, ‘লেগেছে রে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়, যত পারো রক্ত নাও, সেনাবাহিনীর হাতে ক্যাম্পাস দাও’, ‘জমি নিতেই ৬ বছর, হল হতে কয় বছর’, ‘টেন্ডারবাজ প্রশাসন চলবে না, চলবে না, মুলা ঝোলানো প্রশাসন চলবে না, চলবে না’, ‘বছরের পর বছর যায় প্রশাসন শুধু মুলা ঝুলায়’সহ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো:
১. স্বৈরাচার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ডিরেক্টরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ০৭ দিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর দক্ষ অফিসারদের হাতে এই দ্বায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।
২. শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে যে ২য় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট করতে হবে।
৩. অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার সরকারের আমলের সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে।
আন্দোলনে ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস বলেন, প্রশাসন বার বার শুধু আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে৷ স্বাধীন দেশে অধিকার পাওয়ার জন্য বার বার যদি আন্দোলন করতে হয় তাহলে কিসের স্বাধীনতা পেলাম আমরা।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে উপাচার্য হলে দাবি আদায় হবে কিন্তু তা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুলা ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা আর মুলায় বিশ্বাসী না। যদি কেও মনে করে চক্রান্ত করে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজে দুর্নীতি করবেন তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের উৎখাত করতে প্রস্তুত আছে
। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাকছুদুল হক বলেন, ভিসি আসে ভিসি যায় দ্বিতীয় ক্যাম্পাস থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের বারংবার আশাহত করেছে। আমরা আর আশাহত হতে চাই না।
আমাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চাটাই করে অতি দ্রুত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হোক।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসন এসি রুমে বসে থাকে আর জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা আবাসনহীন কষ্ট করে। আমরা আর ছাড়পোকার কামড় খেতে চাই না৷ প্রশাসনকে বলি যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীর কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তর করেন। তৃতীয় দিনে ক্লাসে ক্লাসে ক্যাম্পেইন ও জনমত গঠন করার কর্মসূচী ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আজকের মতো তাদের আন্দোলন সমাপ্ত করেন৷





