Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

জাবিতে ছাত্রদলের দু'পক্ষের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পণ্ড ছাত্রদলের সভা

Sohag Shah • 16 Jan 2025, 09:56 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
জাবিতে ছাত্রদলের দু'পক্ষের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পণ্ড ছাত্রদলের সভা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রথম মতবিনিময় সভায় পদবঞ্চিত ও পদধারীদের মধ্যে হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সভাটি স্থগিত ঘোষণা করেন ছাত্রদলের জাবি শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে এই সভা শুরু হয়।

ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বৃহস্পতিবার বিকালে একটি সভার আহ্বান করে শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা পদের দাবি জানিয়ে এবং কমিটিতে ছাত্রলীগ ও শিবির পদ পেয়েছে এমন দাবি তুলে স্লোগান দিতে দিতে বের হয়ে যান। সেখান থেকে বের হয়ে তারা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তারা আবার ফিরে গিয়ে জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষের বাইরে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় সেমিনারের ভেতরে থাকা পরিচিতিমূলক সভায় উপস্থিত পদধারী নেতাকর্মীরাও পালটা স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর সভা স্থগিত করলে উভয়পক্ষ চলে যান।

এদিকে উভয়পক্ষের স্লোগান চলাকালে অডিটোরিয়ামের লাইট বন্ধ করে সেমিনার কক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রক্টর এসে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করলে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়। লাইট ভাঙচুর ও কাচ ভাঙার বিষয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উভয়পক্ষ একে অপরের উপরের দোষ চাপিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান বিনিময় চলছে। এসময় ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর মতবিনিময় সভা স্থগিত ঘোষণা করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ সচল হওয়ার পর অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষের একটি জানালার গ্লাস ভাঙা ও কাচগুলো নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ভাঙচুরের বিষয়ে উভয়পক্ষই একে অপরের উপর দায় চাপিয়েছেন।

পদবঞ্চিতরা দাবি করেন, আওয়ামী দুঃশাসনের কঠিন সময়ে তারা রাজনীতি করে এসেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এসেছেন। কিন্তু নবগঠিত কমিটিতে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়নি। উলটো দুঃসময়ে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, যারা ছাত্রলীগ করেছে তাদের দিয়ে পকেট কমিটি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজকের সভা তারা বর্জন করেছেন।

পদবঞ্চিত নেতা আবদুল কাদের মারজুক বলেন, আমরা যারা দীর্ঘ একযুগ ধরে রাজনীতি করে আসছি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্টিম রোলার সহ্য করে আমরা যারা রাজনীতি করে আসছি, আমাদের উপেক্ষা করে যে পকেট কমিটি দেয়া হলো, সেই কমিটি আমরা মানি না। আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কেন বঞ্চিত করা হয়েছে তা আমাদের মাথায়ই ধরে না। ৫ আগস্টের পর যারা একটা প্রোগ্রামও করে নাই তারাও পদ পেয়েছে। অথচ আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

সদ্যঘোষিত কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক সেলিম রেজা বলেন, এই কমিটিতে আমাদের সাথে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা অনেক সহযোদ্ধা কোনো পরিচয় পাননি। যারা দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথে থেকেছে তাদের পরিচয় না দেয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের। এজন্য আজ আমরা সভাটি বর্জন করেছি।

সভার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, আমরা ধারণা করছি গুপ্ত সংগঠনের ইন্ধনে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত সভা বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আমাদের একটা অংশ আছে যাদের মধ্যে না পাওয়ার বেদনা আছে। কিন্তু আমরা মনে করি তৃতীয় কোন শক্তির ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদের সাথে মিটিং হয়েছে। সেখানে নির্দেশনা আছে কারো বিরুদ্ধে যদি অকাট্য প্রমাণ থাকে ছাত্রলীগ ও শিবির সংশ্লিষ্ট থাকার, আমরা তাদের অব্যাহতি দিয়ে দিব।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আসলেই কাম্য নয়। আমরা চাই সবাই সুন্দরভাবে সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করুক। ছাত্রসংগঠনগুলো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করুক। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েই লাইটের (আলো) ব্যবস্থা করেছি। আশা করব কেউ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট না করার ব্যাপারে সচেতন থাকবে।

সোহাগ/মিরর

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।