Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

ছাত্রলীগ কর্মীর বেপরোয়া দাপটে অসহায় বৈধ সিটধারী

admin • 24 Apr 2024, 10:59 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
ছাত্রলীগ কর্মীর বেপরোয়া দাপটে অসহায় বৈধ সিটধারী

যায়িদ বিন ফিরোজ,ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বেপরোয়া এক ছাত্রলীগ কর্মীর অনাধিকার ক্ষমতা চর্চার কাছে একপ্রকার অসহায়ত্ব অবস্থায় আবাসিক এক শিক্ষার্থী। ঐ কর্মীর বিরুদ্ধে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ভুক্তভোগী আবাসিক শিক্ষার্থীটি হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রুম পরিবর্তন করার অনুমতি পেলেও পরিবর্তিত নতুন রুমে উঠতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

 

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ্ হলের ৪৩০ নম্বর কক্ষে উঠা নিয়ে এমন বিতর্কিত কান্ডের সূত্রপাত ঘটে।

 

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, আইন বিভাগের (২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষের আরমান পরিবর্তিত নতুন রুম (৪৩০) এ নিজের বিছানাপত্র রাখে। পরবর্তীতে রাসেল তালুকদার নামের সমাজ কল্যাণ বিভাগের (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের ঐ শিক্ষার্থী তা নামিয়ে দেয়।

 

অভিযুক্ত রাসেল তালুকদার শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের সক্রিয় কর্মী। এছাড়াও উক্ত ঘটনায় রাসেলের পক্ষ নিয়ে আরমানকে আপাতত ঐ সিট থেকে সরে যেতে বলেন অনিক কুমার নামের একই বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থী। কিছুদিন পর হলের ভাইদের সাথে কথা বলে একটি ডাবল বেডে সিট ম্যানেজ করে দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন অনিক কুমার।

 

এর আগেও সম্পাদক অনুসারী একাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে ফিনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের (১৯-২০) বর্ষের মাহাদী হাসানের বই লেপতোশক রুমের বাহিরে বের করার অভিযোগ উঠে। পরে একাধিক গণমাধ্যমে নিউজ ও হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিজের সিট ফিরে পায় ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী।

 

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, লালন শাহ্ হলের ১০৮ নম্বর কক্ষের আরমান নামের উক্ত আবাসিক শিক্ষার্থী পূর্বে থেকেই ৪৩০ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে লালন শাহ্ হল প্রশাসনের অনুমতিক্রমে ৪৩০ নম্বর কক্ষে আবাসিকতা পরিবর্তন করেন তিনি। কিন্তু, ২৪ এপ্রিল ৪৩০ নম্বর কক্ষ থেকে তার তোষক, বালিশসহ সকল জিনিসপত্র নামিয়ে দিয়ে রাসেল (সমাজকল্যাণ বিভাগ ২০১৯-২০), অনিক (সমাজ কল্যাণ বিভাগ ২০১৯-২০) তার বন্ধুদের সহযোগে উক্ত কক্ষ জোর করে দখল করে অবস্থান নেয় এবং তাকে সেই কক্ষে অবস্থান করতে বাধা প্রদান করে। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করে হল প্রভোস্ট বরাবর লিখিত দেন।

 

ভুক্তভোগী আরমান বলেন, ২২ এপ্রিল আমি ৪৩০ নম্বর কক্ষের সিটের জন্য দরখাস্ত জমা দেই, আজ সকালে হল প্রভোস্ট তা মঞ্জুর করেন। যে ভাইয়ের রুমে যাব তার সাথেও ফোনে কথা বলে নিশ্চিত করে দেন। আমি সকালে বাইরে গিয়েছিলাম। ১১টার দিকে এসে দেখি আমার বেডপত্র নাই! রাসেল আমার জিনিসপত্র সরিয়ে তার জিনিসপত্র রেখে দিয়েছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তরুণ ও শাহীন ভাই থাকতে বলছে বলেছে জানায়।

 

আরমান আরও বলেন, আমাকে বলা হয় যে যতবেশি পলিটিক্যালি এক্টিভ সে তত ভালো সিট পাবে, দুই সিটের রুম পাবে। তারা গতকালও এসেছিল। তখন আমি বলেছিলাম আমি লিগ্যালি এখানে মাইগ্রেট করে এসেছি। এই বিষয়ে অনিক তখন হল কর্মকর্তাকে জয় ভাইয়ের (শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক) সাথে কথা বলিয়ে দিতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জয়ের সাথে কেনো কথা বলব? এটা তো হলের লিগ্যাল প্রসেস। এটা শুনে অনিক বলে ঠিক আছে; আমি ব্যাপারটা দেখতেছি। পরে আমি রাসেলকে কল দিয়ে জানাই যে হল অফিস থেকে সিটে থাকতে বলে দিয়েছে৷ তাই আমি এই রুমে থাকতে চাচ্ছি। তখন রাসেল বলে- না, এভাবে হবে না। এখানে উঠা যাবে না। আপনি আমাদের কথা শুনলেন না, আপনি হল অফিসে গিয়েছেন। আপনি কিন্তু এই সিটও পাবেন না, ওই সিটও পাবেন না।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল বলেন, আমি ২০৯ নাম্বার রুমে ছিলাম। আরিফ ভাই চলে যাওয়ায় তার সিটে আমার ওঠার কথা ছিল। উনি (আরমান) যখন দরখাস্ত দিছে তখন আরিফ ভাই হলে ছিল, একজন থাকা অবস্থায় তো আরেকজনকে সিট দেওয়া যায় না। আজকে আরিফ ভাই ফাইনালি চলে যাওয়ায় আমি রুম পরিবর্তনের দরখাস্ত দিয়ে এসেছি। এখানে কাওকে সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার বা বেডপত্র সরিয়ে দেওয়ার কোন ঘটনা ঘটে নাই।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সবসময়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। হলের সিটের ব্যাপারে যদি বলি, যে যেই সিটে বৈধ সে সেখানে সিট পাবে। যদি সিট থেকে নামিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে আমি তা সমাধান করে যার সিট যেখানে তাকে সেখানে যেতে বলবো।

 

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, সিটের জন্য শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে এটা আমাদের প্রত্যাশা নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করবে। হল প্রশাসন যদি অনুমতি দিয়ে থাকে তবে সে শিক্ষার্থী ওই সিটেই থাকবে।

 

হলের সিট থেকে নামিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে লালন শাহ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ আকতার হোসেন বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। হল বডি নিয়ে বসে খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।