Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর জাতীয়

কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটে অনিয়ম-দুর্নীতি;প্রকৌশলী দিলেন ভুল তথ্য

admin • 13 Aug 2022, 01:35 AM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটে অনিয়ম-দুর্নীতি;প্রকৌশলী দিলেন ভুল তথ্য
 কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের টিন শেডের (Large Auditorium) সিলিং স্থাপনে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নার্সিং ইনস্টিটিউটের টিন শেড অডিটোরিয়ামে ১৬০০ বর্গ ফুট সিলিং স্থাপন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত স্বারক নং- ৪৫.০২.০০০০.৩২১.২০.০০১.২২-৪৬২; ২৭/০৭/২০২২ তারিখের লিখিত তথ্য মতে জানা যায় এতে ব্যয় হয়েছে ৪,৭৪,৯৮৯.৭৪ টাকা। তবে ব্যয় বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে ফলস সিলিং বাবদ ৩,৮৬, ৯৮৯ টাকা এবং টিন শেড উইদ এঙ্গেল বাবদ ৮৮,০০০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
যেখানে বর্তমান বাজারমূল্যে ওই সিলিং এর সর্বোচ্চ ব্যয় হওয়ার কথা মাত্র ৯০০০০ টাকা।তাছাড়া লোহার এঙ্গেল দিয়ে সামান্য একটু টিনশেড স্থাপন করে তুলে নেওয়া হয়েছে ওই ৮৮,০০০ টাকা।এখানেও রয়েছে দুর্নীতির আলামত।
এবিষয়ে ২০ জুন ২০২২ তারিখে তথ্য অধিকার ফরমে তথ্য প্রাপ্তির আবেদন করা হলে তথ্য দিতে করা হয় ব্যাপক গড়িমসি। বারংবার তাঁদের দপ্তরে ঘুরে ঘুরে অবশেষে গত ২৭ জুলাই ২০২২ তারিখে মেলে তথ্য। তাতেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে পড়তে হয় বিভ্রান্তিতে। তথ্য ফরমে রযেছে উক্ত কাজ সম্পাদনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বুলবুল এন্টারপ্রাইজ, গাংনী, মেহেরপুর।
কিন্তু প্রদত্ত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে আনোয়ার নামে পরিচয় দেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান পিয়াস কনস্ট্রাকশন বলে জানান। এছাড়াও তাঁর প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের কোনো কাজই করেননি বলে জানান।
উক্ত সিলিং স্থাপনের খরচ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ধরনের সিলিং সবচেয়ে ভালো ফিটিংস দিয়ে করলে প্রতি বর্গফুটে ৫৩ টাকা খরচ পড়ে।  সে হিসাবে ১৬০০ বর্গফুটে খরচ আসে ৮৪,৮০০ টাকা।
এদিকে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী কাজ বুঝে নেয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ কাঞ্চন মালা। জানা যায়, কোনো এক অদৃশ্য কারনে কোনপ্রকার যাচাই-বাছাই ও জবাবদিহিতা ছাড়াই এতো কম মূল্যের কাজ কয়েকগুণ বেশি দরে মেনে নেন তিনি।
এবিষয়ে নার্সিং ইনস্টিটিউটের নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইন্সট্রাক্টর বলেন, কাঞ্চন মালা ইনচার্জ হয়ে আসার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠান অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তাঁর একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠে গত ১২ জুন ২০২২ তারিখে ইনচার্জকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এছাড়াও তাঁর অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ক্ষমতা অপব্যবহার করে ল্যাবের এসি নিজ শয়নকক্ষে স্থাপন, সপরিবারে ইনস্টিটিউটের কক্ষ দখল করে বসবাস, নিষিদ্ধ গাইড বই বানিজ্য, পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষকের তথ্য ফাঁসসহ আরও অনেক গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে ইনচার্জ কাঞ্চন মালা নিজেকে নিরপরাধী দাবি করে বলেন, সিলিং এর খরচ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।কাজ বুঝে নিতে বলা হলে আমি সিলিং মেপে নিয়েছি। এইদিকে ৪০ ফুট আর ওইদিকে কত যেন মনে নাই।আর লোহার এঙ্গেল দিয়ে একটু টিনশেড করিয়ে নিয়েছি যাতে অডিটরিয়ামে পানি না পরে।
এইসব বিষয় নিয়ে এইসইডি কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান এর মুঠোফোনে একাধিক কল, মোবাইলে খুদে বার্তা ও ই-মেইল বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।