Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
ক্যাম্পাস

ইবিতে নেতার থ্রেটে নিরাপত্তা শঙ্কায় শিক্ষার্থী

admin • 15 Jul 2024, 08:44 PM • পঠিত 2 বার
শেয়ার করুন:
ইবিতে নেতার থ্রেটে নিরাপত্তা শঙ্কায় শিক্ষার্থী

‘ঝাড়ু দিয়ে মাথায় আঘাত কিংবা ‘রাজাকার’ কিনা এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে শুধুমাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলনের গতকাল রাতের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার কারণে’ বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের (২০১৮-১৯) বর্ষের মাহফুজ উল হক। অভিযোগের তীর শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হাফিজের বিরুদ্ধে।

 

এছাড়াও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি’সহ ছাত্রলীগ এই পদধারী নেতার বিরুদ্ধে ঐ শিক্ষার্থীকে থ্রেট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এবিষয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় ও বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দেন ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী।

 

এই হুমকি দেওয়ার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টাটাস দেয় ঐ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। সেখানে কমেন্ট বক্সে অনেকেই এই ঘটনার বিচার চান।

 

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র ঐসব দপ্তরে জমা দেন মাহফুজ। এছাড়াও নিজে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

 

অভিযোগপত্রে মাহ্ফুজ উল্লেখ করেন, আমি আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে নিজ কক্ষে পড়ছিলাম। সাড়ে ১১টার দিকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষবর্ষের সোহান রুমের সামনে এসে ছাত্রলীগের প্রোগামে যাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করার কিছুক্ষণ পর শাখা ছাত্রলীগের মেহেদী হাসান হাফিজ কক্ষের সামনে আসে এবং গতকাল রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে গিয়েছিলাম কিনা জানতে চায়।

 

গিয়েছি জানার পর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে বলেন 'তুই কি রাজাকার? রাজাকার না হলে ওই মিছিলে গেলি কেন?' আমি তাকে 'রাজাকার হবো কীসের জন্যে? কোনটা ব্যঙ্গার্থক আর কোনটা আসলেই সেটা তো আপনার বোঝা উচিত।' বললে কথাকাটাকাটির সৃষ্টি হয়। এরপর কক্ষে থাকা ঝাড়ু দিয়ে দুই বার আমার মাথায় সজোরে আঘাত করে। যার ফলে ঝাড়ু ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরও মারতে উদ্যত হলে আমাকে ডাকতে আসা সোহান এবং সৌরভ শেখ হাফিজ ভাইকে ঠেকায়। যাওয়ার সময় তিনি হুমকির সুরে বলে যান, 'ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম থেকে ফিরে যেন তোকে হলে না দেখি। যদি কেউ কিছু বললে বলবি আমার নাম হাফিজ। তোর কে আছে দেখবোনে।'

 

এবিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা হাফিজ বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমি তো জানতামও না যে আমি সেখানে গেছি। একটু আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আমি নাকি রুমে যেয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করছি। যেখানে আমি যাই ই নাই, সেখানে আমি মারধর করলাম কিভাবে তা বোধগম্য না। আমার মানহানি করা হচ্ছে, আমি নিজেও এব্যাপারে অভিযোগ দিব।

 

এ ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় আছেন বলে জানান মাহফুজ। পাশাপাশি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। মাহফুজ শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ৪২০ নং কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

 

ঘটনাটির বিষয়ে ঐ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শেখ এ.বি.এম. জাকির হোসেন বলেন, মারধরের বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছি এবং ছাত্রলীগের দুই নেতার সাথেও আমি কথা বলেছি। তারা বলেছে যে অভ্যন্তরীণ ভাবে বিষয়টি সমাধান করে নিবে।

 

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, এ আন্দোলন যাওয়ার জন্য কখনোই কাউকে মারধর করা হয়নি এবং মারধরের যে বিষয়টি বলা হচ্ছে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

 

ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল বলেন, একটি ছাত্র সংগঠনের নামে জিয়া হলের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার অভিযোগ এসেছে। যদি ঘটনাটি ঘটে থাকে তবে অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর প্রতিকার বিধানে যা যা প্রয়োজন আমাদের প্রশাসন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, সাড়ে ১১ টার সময় জিয়া হলে মারধরের একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। আমরা বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। আর ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য আমরা অভিযোগের কপিটি ইবি থানায় দেব।

 

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের, ২০ অক্টোবর এই নেতার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে এক ছাত্রী ও তাঁর বন্ধুদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠে মেহেদী হাসান হাফিজের বিরুদ্ধে। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।