ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে এস্টেট অফিসের নিরাপত্তা সেলের নিরাপত্তা কর্মী ফরিদ উদ্দিন ও উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা কতৃক হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
এ অভিযোগ আনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: রেদওয়ান মাহমুদ ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাতিমা তুজ জোহরা।
সোমবার (১৭ জুলাই) বেলা ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার নিকট এ অভিযোগ জানান বলে জানা যায়।
অভিযোগ পত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেদওয়ান বলেন, গত মঙ্গলবার (১১জুলাই) বিকেলে আমরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলে গন্তব্যে যাওয়ার পথে ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা কর্তৃক হয়রানি ও হুমকির শিকার হই। এ ঘটনায় আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
রেদওয়ান মাহমুদ বলেন, আমরা বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী ফরিদ উদ্দিন আমাকে হাতের ইশারায় বাইক থামাতে বলে। আমরা বাইক থামালে সে বলে তুমি কি পুলিশ? বাইকে পুলিশ লেখা কেন? আমি বলি এই বাইক আমার পরিচিত এক পুলিশের। এতে তিনি চড়াও হয়ে আমাকে পুলিশের বাইক চালানো যাবে না বলে বাইক থেকে নেমে যেতে বলেন।
এসময় উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা বাইকে করে আসলে বলে বাইক এখানে দাড় করিয়েছ কেনো। এতে আমি উত্তর দিই নিরাপত্তা কর্মী আমাকে এখানে দাড় করিয়েছে। কেন তার মুখের উপর কথা বললাম এজন্য আমাকে হেনস্তা করে। আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী তাকে বুঝাতে গেলে তাকেও বাজে ভাবে হয়রানি করা হয়
পরে সে বিভিন্ন মানুষকে দিয়ে তাদের ক্যাম্পাসে ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে আমাদের হুমকি প্রদান করলে আমার সাথে থাকা শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ইবি মেডিকেলে ভর্তি হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে পাঠানো হয়। সে এখনো অসুস্থ রয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে ফাতিমা তুজ জোহরা বলেন, তাদের হুমকির কারণে আমার প্রেশার বেড়ে যায় এতে আমি শ্বাস কষ্ট সহ বুক ব্যাথা নিয়ে সারা রাত কষ্ট পেয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেই যদি সাধারণ শিক্ষার্থী নিরাপদ না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মী ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমার নামে অভিযোগ কি এটাই আমি জানতে পারি নি। গত দুই দিন আগে আমি প্রক্টরের কাছে আবেদন দিয়েছি। তারা এলোপাতাড়ি মোটর সাইকেল চালাচ্ছিল। তাদের দেখে আমরা দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করে শিক্ষার্থী নাকি বহিরাগত। তাদের সাথে আমাদের অল্প দুইএকটা কথা হয়েছে। এর বেশি না। পরে আমরা ঘটনা স্থান ত্যাগ করি। তারা কি অভিযোগ করেছে আমরা জানি না। এজন্য এ ব্যাপার আমি মন্তব্য করতে পারছি না।
এ বিষয়ে উপ-উপ-উপাচার্যের পিএস সোহেল রানা বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। সে বাচার জন্য হয়তো অভিযোগ দিয়েছে। আমি সেখানে পরে গিয়েছি। লাইব্রেরির সামনে সিকিউরিটি কর্মকর্তার সাথে দুইজন শিক্ষার্থী বাকবিতন্ডায় জড়িয়েছিল। আমি গিয়ে মানসম্মান যাওয়ার মত অবস্থা দেখে সেখান থেকে চলে আসি। পরে সিকিউরিটি অফিসার ও সেই দুই শিক্ষার্থী পারষ্পরিক অভিযোগ করেন। আমি জানতাম না তারা অভিযোগ করেছে।
এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা ফাইলটা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত হবে।





