জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিকে সামনে এনে কর্মসূচি পালন করছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনগুলো মনে করছেন, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ায় মূল অপরাধীর বিচার প্রশ্নটি আড়ালে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাবি শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, “আমাদের মূল দাবি অপরাধীর দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা। এরপর এ ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাফিলতি থাকলে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত ছাড়া আগেই সরাসরি প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করাটা যৌক্তিক নয়।
এদিকে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে নারী নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা উদ্বেগজনক। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত। তবে কিছু শিক্ষার্থী মূল দাবির চেয়ে প্রক্টরের পদত্যাগ ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে অপরাধীর বিচারের বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির (জাবি শাখা) সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, “আমাদের প্রধান দাবি অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে প্রক্টরের পদত্যাগ ইস্যুকে সামনে এনে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।”
তবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার মূখ্য সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “আমরা শুধু পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছি না। আমাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে দোষীর দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারও রয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পরে বর্তমান প্রক্টরিয়াল টিম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাই আমরা পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ চাই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত এমন পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “ক্যাম্পাসে ধর্ষণ চেষ্টার যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা নষ্টের কোনো প্রচেষ্টা কাম্য নয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে জঙ্গলের ভেতরে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা দোষী ব্যক্তির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
সোহাগ/মিরর





