বান্দরবান রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হয় এবং নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার করে বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে মিজোরামে পাঠানো হয়। প্রতিটি কুকুরের দাম ১০-১২ হাজার টাকা। মিজোরামের বসন্ত উৎসব 'চাপচার কুট'-এর সময় কুকুরের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়, যা পাচারের পিছনের মূল কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে এবং কোনো এলাকায় টিকাকৃত কুকুর সরালে সেখানে নতুন, টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করতে পারে। রাঙামাটিতে মালিকবিহীন কুকুর শিকার এবং মাংস খাওয়ার নামে পাচারের ঘটনাটি বর্তমান সময়ে একটি চরম উদ্বেগজনক ও সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর পরিচয় দিয়ে যে চক্রটি এই কাজ করছে, তারা সরাসরি বাংলাদেশের ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন লঙ্ঘন করছে। এই আইন অনুসারে মালিকবিহীন কোনো প্রাণীকে বিনা কারণে ধরা, অপসারণ বা হত্যা করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
মূলত প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেই রাষ্ট্র এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে এই আইনের প্রয়োগের অভাবে একটি বিশেষ চক্র কৌশলে কুকুরগুলোকে সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করে দিচ্ছে।





