ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিতে নিজের শিশু সন্তানকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিওটি ভাইরাল হতে দেখা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুণ্ডা ইউনিয়নের কুণ্ডা গ্রামের ইব্রাহিমপুরে ওই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুণ্ডা গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে সরুফা আক্তারের সঙ্গে নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলা বজরা গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে তুষারের বিয়ে হয়। আড়াই বছর সংসার করার পর তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। তাদের ঘরে ফাতেমা আক্তার নামে দেড় বছরের একটি শিশু সন্তান আছে। কিন্তু মনোমালিন্যের কারণে স্ত্রী সরুফা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার বাড়ি থাকছেন। কিছুদিন ধরে তিনি তার স্বামীকে টাকা পাঠানোর জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ইমু নাম্বার থেকে সরুফা আক্তার তার স্বামীকে একটি ভিডিও পাঠান। তাতে দেখা যায়, সরুফা আক্তারের বাপের বাড়ি (কুণ্ডা) রাস্তার ওপর তার সন্তানকে কালো কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করছেন। আর মার নির্মম নির্যাতনে কোণঠাসা শিশুটি কাঁদছে৷
এ বিষয়ে জানতে সরুফা আক্তারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আজ বিকেলে ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি৷
শিশু সফুরার বাবা তোষার মিয়া বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। পরে পুলিশ ও পরিবারের গণ্যমান্যরা মিলে বিষয়টি সমাধান করেছে৷ আমার স্ত্রী যে ঘটনা ঘটিয়েছে তার শাস্তি সে পেয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদেরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।





