স্বামী যদি দিনের পর দিন রাত করে বাড়ি ফেরেন, তবে স্ত্রী সন্দেহ করবেন। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এক রাজনৈতিক নেতার দায়ের করা মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ ভারতের ছত্তিশগড় হাইকোর্টের। বিচারপতি গৌতম ভান্ডারি ও দীপককুমার তিওয়ারির ডিভিশন বেঞ্চ স্ত্রীর এই ‘ব্যবহার’কে অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন এবং একে আদালতের ভাষায় ‘নিষ্ঠুরতা’ বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন।
বছর চারেক আগে এক ব্যক্তি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন। হলফনামায় জানান, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন দলের কিছু না কিছু কর্মসূচি, বৈঠক ইত্যাদি থাকে। এ জন্য প্রায়ই বাড়ি ফিরতে তাঁর রাত হয়ে যায়।
কিন্তু এ নিয়ে স্ত্রী তাঁকে অহেতুক সন্দেহ করেন। তাঁর অন্যত্র কোনো সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দিনের পর দিন স্ত্রীর এমন আচরণে তিনি বিরক্ত।
তাই বিবাহবিচ্ছেদ চান। পারিবারিক আদালত বিচ্ছেদের অনুমতি দিলেও সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্ত্রী। সম্প্রতি ওই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী যে অভিযোগগুলো করেছেন, তা সত্যি না-ও হতে পারে। কিন্তু স্বামীর প্রতি দিনের এই কাজকর্মও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তিনি নিজের কাজ সম্পর্কে স্ত্রীকে বোঝাতেও পারেননি।
কিংবা হয়তো চাননি। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘স্বামী রাতের পর রাত একই কাজ করলে স্ত্রীর সন্দেহ হবেই। সেটা অস্বাভাবিক নয়।’
পাশাপাশি, স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে কথা বললে ওই স্বামীও তাঁকে সন্দেহ করেন বলে তথ্য পেয়েছেন আদালত। যা নিয়ে বিচারপতি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ন্যূনতম বিশ্বাস থাকা দরকার। এটা মনে করার কোনো মানে নেই, স্ত্রী শুধু তাঁর স্বামীর পছন্দের লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন।’ এরপর পারিবারিক আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা





