Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

সুপ্রিম কোর্ট বারে প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ

admin • 21 Jul 2026, 11:28 AM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
সুপ্রিম কোর্ট বারে প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে স্মরণ

সদ্য প্রয়াত সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ জুলাই (সোমবার)  সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার জমিরসহ অনেকে।   সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। স্মৃতিচারণ করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে আমার পরিচয় পারিবারিকভাবে। আমি যখন ছাত্র, তখন থেকেই তাকে চিনি।   তিনি বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ ছিলেন। চমৎকার একজন ভদ্রলোক ছিলেন। স্বল্পভাষী, আস্তে কথা বলতেন এবং সবসময় অত্যন্ত পরিপাটি থাকতেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আইনজীবী হিসেবে দেখেছি, বিচারপতি হিসেবেও দেখার সুযোগ হয়েছে। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি হিসেবেও তিনি কিছুদিন আগে এক নম্বর কোর্টে এসেছিলেন। তখন আমি তাকে বলেছিলাম, “সরকার সাহেব, আপনি কেন কষ্ট করে আসেন?” তিনি বলেছিলেন, কোর্টে আসতে আমার ভালো লাগে।” আমি বলেছিলাম, “ফিলিং ইজ মিউচুয়াল। আমাদেরও আপনাকে দেখতে খুব ভালো লাগে।

 

জমির উদ্দিন সরকারের দুটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার কাছে তার দুটি বৈশিষ্ট্য অসাধারণ মনে হয়েছে। প্রথমটি হলো এই পেশার প্রতি তার ডেডিকেশন। দ্বিতীয়টি হলো হাতে নেওয়া মামলার প্রতি তার কমিটমেন্ট।’

 

আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যে মামলাটি হাতে নিয়েছেন, সেটির প্রতি আপনার কমিটমেন্ট থাকতে হবে। মনে রাখবেন, বিচারপ্রার্থী ওপরে আল্লাহ এবং নিচে আপনার ওপর ভরসা করছেন। আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখি, আইনজীবীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে আসেননি। আপনাদের এখন অনেক মামলা ও ব্যস্ততা। কিন্তু আপনি ঠিক ততটুকু মামলা নেবেন, যতটুকু আপনি আপনার বিচারপ্রার্থীর প্রতি ইনসাফ করতে পারবেন।’

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারপ্রার্থী আপনাকে পেশাগতভাবে নিয়োগ করেছেন। তার প্রতি সুবিচার করা আপনার আইনি, নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। বিচার করবেন বিচারপতিরা, কিন্তু তার আগে আপনি আপনার মক্কেলের প্রতি সুবিচার করুন। তার মামলাটি যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করুন। মামলায় জয়-পরাজয় পরের বিষয়।’

 

জমির উদ্দিন সরকারের পেশাগত নিষ্ঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি যে মামলাই নিতেন, সেই মামলার প্রতি তার পূর্ণ কমিটমেন্ট থাকত। তিনি অত্যন্ত ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আদালতে আসতেন এবং মামলার মেরিট সম্পর্কে আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন।

 

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আজকাল এই বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির কিছুটা অভাব দেখা যাচ্ছে। আমি আশা করব, আমরা জমির উদ্দিন সরকারের এই দুটি গুণ অনুসরণ করতে পারব।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ কর্মজীবন, আইন পেশায় অবদান, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার কথা স্মরণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।