Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জাতীয়

সানফ্লাওয়ার লাইফের ১৭৫ কোটি টাকা হাওয়া

admin • 14 Dec 2022, 08:25 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
সানফ্লাওয়ার লাইফের ১৭৫ কোটি টাকা হাওয়া

সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে ১০ বছরে অতিরিক্ত ১৭৫ কোটি টাকা খরচ করেছে। যা মোট প্রিমিয়াম আয়ের ১৯ শতাংশ। বিশাল এই খরচের কারণে কোম্পানিটি বর্তমানে বীমা দাবি পরিশোধ করতে পারছে না।

বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অনুষ্ঠিত একটি সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সানফ্লাওয়ার লাইফের প্রকৃত এবং অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৫৬১.৬৪ কোটি টাকা এবং ৩৮৫.৭৯ কোটি টাকা। কিন্তু কোম্পানিটি অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ১৭৫.৮৫ কোটি টাকা।

আইডিআরএ মনে করছে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ কোম্পানির বিশাল এই খরচ বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ। শুধু অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ই করেনি কোম্পানিটি। ধারাবাহিকভাবে কমেছে প্রিমিয়াম আয়। ২০১৭ সালে কোম্পানির নিট প্রিমিয়াম আয় ছিল ১১৮.৮৬ কোটি টাকা যা ক্রমাগতভাবে কমে ২০২১ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৪৭ কোটি টাকায়।

প্রিমিয়াম আয়ের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং কোম্পানিটি ব্যবসায়িকভাবে যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না বলে মনে করছে আইডিআরএ।

এছাড়াও উচ্চহারে পলিসি তামাদি হচ্ছে কোম্পানিটির। ২০১৭ সালে কোম্পানিটির মোট তামাদি পলিসির শতকরা হার ছিল ৬৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে তামাদি পলিসির শতকরা হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৫ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে তামাদি পলিসির শতকরা হার ৭৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

উচ্চহারে পলিসি তামাদি হওয়ার কারণে কোম্পানির নিট মুনাফা হচ্ছে না। বিক্রিত পলিসি সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছর চলমান থাকার পর কোম্পানি পলিসি হতে মুনাফা অর্জন করতে পারে। কিন্তু এর পূর্বেই পলিসি তামাদি হলে বীমাগ্রহীতা ও বীমা কোম্পানি উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বীমাগ্রহীতারাও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে ২১ নভেম্বরের সভায় সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) আব্দুল মান্নান বলেন, আগে প্রিমিয়াম আয়ের অনেকটাই কাগুজে প্রিমিয়াম ছিল। বর্তমানে প্রিমিয়ামের প্রকৃত হিসাব রাখা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা ব্যয় অতিরিক্ত হওয়ার জন্য মাত্রাতিরিক্ত কমিশন ও অত্যধিক গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

পরিশোধিত মূলধন বিষয়ে তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় মূলধনের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করা হবে। জমিতে বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে মামলা চলমান আছে।

বাংলালায়নের জিরো কৃপন বন্ডে বিনিয়োগ সম্পর্কে বলেন, এ বিষয়টি মামলাধীন রয়েছে তবে উক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। কোম্পানিটি এবছর ৮৪ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও জানিয়েছেন আব্দুল মান্নান।

বিষয়গুলো নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পলিসিহোল্ডারদের অর্থ যৌক্তিকভাবে ব্যয় ও বিনিয়োগ করেনি। কোম্পানির বক্তব্য অস্পষ্ট। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, নবায়ন প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অব্যবস্থাপনা ও বীমা আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।

বীমা দাবি পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, বীমা আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধের বিধান রয়েছে। কোম্পানির অনিষ্পন্ন বীমা দাবি পরিশোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লাইফ ফান্ডের অর্থ কোথায় বিনিয়োগ রয়েছে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদানের জন্য কোম্পানিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি ব্যবস্থাপনা ব্যয় হ্রাস করে অনুমোদিত সীমার মধ্যে আনার জন্য কোম্পানির পর্ষদকে পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রিমিয়াম আয় থেকে বীমা দাবি পরিশোধ করার ধারণা সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মনে করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।