Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

সরকারি দপ্তরে চুরি,ধোঁয়াশায় তদন্ত প্রতিবেদন

admin • 07 Apr 2024, 10:25 AM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
সরকারি দপ্তরে চুরি,ধোঁয়াশায় তদন্ত প্রতিবেদন

 দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও সঠিক টাকার অংক এবং নথি সম্পর্কে জানেন না তদন্ত কমিটি। এতে করে ধোঁয়াশায় রয়ে গেছে পুরো তদন্ত প্রতিবেদন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ.কে.এম খোরশেদুজ্জামান এর কক্ষ থেকে চুরি হয় নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি। এঘটনায় গত ১৯ জানুয়ারি মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.অমল কুমার দাসকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. কে. এম খোরশেদুজ্জামান। তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এদিকে, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের বিভিন্ন কাজের চাপের কথা বলে মৌখিকভাবে সময় বাড়িয়ে নেয় তদন্ত কমিটি। কমিটি গঠনের দুই মাস ১০ দিন পর ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ.কে.এম খোরশেদুজ্জামানের বদলির ঠিক এক দিন আগে গত ৩০ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। দীর্ঘ সময় নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলেও কত টাকা ও কী ধরনের নথি চুরি হয়েছে এবিষয়ে জানেই না তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

টাকার পরিমাণ এবং নথির তথ্য না জেনেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ও দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুর রহমান রাহি বলেন, "আমরা তদন্ত করে দেখতে পাই জানালার গ্ৰীল ভাঙ্গা ছিলো এবং ডয়ার ও আলমারির দরজা খোলা ছিলো। তবে কত টাকা এবং কী ধরনের নথি চুরি হয়েছে তা তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্যার আমাদের অবগত করেনি। তাই, ঐই অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার নিকট জমা দেয়া হয়।"

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টাকা চুরির আগে কার্যালয়ের হিসাব রক্ষকের কাছ থেকে দাপ্তরিক কাজে ব্যয়ের কথা বলে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নেন ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ.কে. এম খোরশেদুজ্জামান।

এবিষয়ে তৎকালীন দায়িত্বে থাকা হিসেব রক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, "অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সংশ্লিষ্ট হিসাব অফিসের হিসাব রক্ষকের কাছে থাকার কথা থাকলেও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা খোরশেদুজ্জামান অফিসিয়াল কাজে ব্যয়ের কথা বলে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা আমার কাছ থেকে নেন। আমি এই টাকার রিসিভ করে তাকে বুঝিয়ে দেই। এখন এই টাকা চুরি হয়েছে নাকি অন্য কোন টাকা তা আমি জানি না।"

এদিকে, বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ.কে.এম খোরশেদুজ্জামান এর দেবীগঞ্জ অফিস থেকে রংপুর বুড়িরহাট অফিসে বদলী হবার খবর নিশ্চিত হলে চুরির বিষয়টি গত ৩১ মার্চ প্রকাশ পায়। এ নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

চুরির ঘটনা সুরাহা না করেই বদলি নেয়া মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ.কে.এম খোরশেদুজ্জামান জানান, চুরির বিষয়ে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তদন্ত কমিটি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। দোষ যিনিই করুক না কেন আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের একাধীক কর্মচারী জানান, ঘটনার কয়েকমাস আগে থেকে অফিসের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিলো। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো যে কক্ষে চুরি হয়েছিলো সে কক্ষের দরজার তালা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ছিলো। এ সময় অফিসের ড্রয়ার ও আলমারির তালা খুলা ছিলো। আসল ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

চুরির ঘটনায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় নি জানতে চাওয়া হলে দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের বর্তমান মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. অমল কুমার দাস বলেন, কক্ষের ভিতরের অবস্থা দেখে কোনো ভাবে মনে হয়নি যে বাইরের কেউ ঢুকে চুরি করেছে। কারন সেসময় কর্মকর্তা কক্ষের কাজ শেষে বের হবার পর ওই কক্ষ তালাবন্ধ ছিলো। এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ বা মামলা করতে নির্দেশ না দেয়ায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এদিকে, প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরির ঘটনায় কী ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার জানান, "এই বিষয়ে ইতিপূর্বে কেউ আমাদের অবগত করেনি।"

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।