Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

রাতের আঁধারে গাছ কাটার খবর, পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা দুপক সভাপতি আটক

admin • 29 Sep 2024, 04:20 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
রাতের আঁধারে গাছ কাটার খবর, পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা দুপক সভাপতি আটক

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে রাতের আঁধারে বনবিভাগের ১২৭টি গাছ কেটে ফলেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম শাহ।

 

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে বারোটায় দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তালতলা খয়ের বাগানে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।

 

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা খয়ের বাগানে মিঞ্জিরী, পিঠালীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১২৭টি গাছ কেটে ফেলে রেখে যায়। শুক্রবার সকালে কাটা গাছগুলো দেখতে পেয়ে তারা দেবীগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসে খবর দেয়। পরে বনবিভাগের কর্মকর্তারা আনুমানিক সকাল ৮ টা'য় সেখানে যায়। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। এর ঘন্টাখানেক পরে সেখানে সহকারী বন সংরক্ষক নূরন্নাহার ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাইফসহ সেনাবাহিনীর একটি টিম সেখানে যায়। তার কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দেবীগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম শাহ।

স্থানীয়রা আরো জানান, এইসময় সহকারী বন সংরক্ষক নুরন্নাহার সেনা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন খয়ের বাগান এলাকায় গাছ না লাগানোর বিষয়ে খোরশেদ আলম শাহ তাকে হুমকি দিয়েছেন। বন কর্মকর্তার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাইফ অভিযুক্ত খোরশেদ আলমক শাহকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি থানায় আটক ছিলেন। একই সাথে সেখানকার উপকারভোগীরা সে সময় খোরশেদ আলম শাহকে গাছ কাটার মূল হোতা বলে দাবি করেন। যদিও তাদের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ গত দুই বছর থেকে সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম এমু খয়ের বাগানের কয়েক হাজার গাছ কাটেন বলে সেখানকার এলাকাবাসী জানান।

 

বনবিভাগের সদর বিট অফিসার রিয়াজুল হাসনাত বলেন, সকাল ৭টায় খবর পেয়ে অফিসের বাকি কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে ১২৭টি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পাই আমরা। তবে স্থানীয়দের ধারণা খোরশেদ আলম শাহ গাছ কাটার ইন্ধনদাতা হতে পারেন। যদিও আমরা তাকে হাতেনাতে গাছ কাটার সময় আটক করিনি।

 

এই বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক নূরন্নাহার বলেন, এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আটক করেছেন সেনাবাহিনী।

 

এই দিকে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান হালিম বলেন, খোরশেদ আলম শাহ আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষ। তাকে কারো মিথ্যা এবং মৌখিক অভিযোগে আটক করা উচিত হয়নি। আমি যতটুকু জানি, খোরশেদ সাহেবের সাথে বনবিভাগের কিছুটা দুরত্ব আছে। কারন, খোরশেদ সাহেবের ২০ একর জমি দীর্ঘদিন থেকে বনবিভাগের দখলে আছে৷ সেই জমি বনবিভাগের কাছ থেকে ফেরত পেতে আইনি প্রক্রিয়ায় চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় নিয়ে খোরশেদ সাহেব ভূমি মন্ত্রণালয়, এসিল্যান্ড অফিস, ফরেষ্টের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। ওনার মতো ওই এলাকায় কয়েক শতাধিক ভুক্তভোগী ভূমি মালিক রয়েছেন।

 

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আটক খোরশেদ আলম শাহের বিরুদ্ধে বন বিভাগ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ অধিদপ্তর থেকে এক পরিপত্রে বলা হয়, প্রাইভেট ফরেস্ট অর্ডিন্যান্স-১৯৫৯ এর আওতায় বনায়নকৃত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বনবিভাগের নামে রেকর্ড করা যাবে না ‌এবং ক্ষতিপূরণ দেয়া না হলে ভূমি মালিকদের নামে রেকর্ড করতে হবে। ২০২১ সালে ভূমি আপিল বোর্ডে বনবিভাগের একটি মামলার রায়ে বিচারক প্রাইভেট ফরেস্ট অর্ডিন্যান্স-১৯৫৯ এর আওতায় বনায়নকৃত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০৭ ও ২০১৪ সালে পৃথক দুইটি প্রতিবেদনে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক উক্ত জমিগুলোকে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।