Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
আর্ন্তজাতিক

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত বেকায়দায় মোদি

admin • 05 Jun 2024, 03:01 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত বেকায়দায় মোদি
 তুহিন কালীমূল্ল্যাহ
গুজরাটে তিনিই ছিলেন সর্বসেরা। হিন্দু মুসলিম বিভাজনের রাজনীতিই তার আদর্শ। গুজরাটে একাধিকবার দাঙ্গা বাঁধিয়ে, অসংখ্য মুসলমানের রক্তে হাত রঞ্জিত করে ক্ষমতার মসনদ পাকা করেছিলেন তিনি। তাই কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) ও শিবসেনার প্রিয়পাত্র হয়ে যান অচিরেই।
সেই সাথে খ্যাতি পেয়েছেন গুজরাটের কসাই হিসেবে। এতকিছুর পরও ভোটের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, অপ্রতিরোধ্য এবং বলতে গেলে অপরাজেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে তার দল কখনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি। পেয়েছে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি মোদির দল বিজেপি। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ টি।
সরকার গঠনে তাই প্রয়োজন ২৭২ আসন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ২৮২ আসন। ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৩০৩ এ। অথচ ২০২৪ সালে এসে আসন সংখ্যা কমেছে ৬৩ টি। অর্থাৎ সংখ্যার হিসেবে বিজেপি পেয়েছে ২৪০ আসন। নিশ্চিতভাবেই এটা বিজেপি ও মোদির জন্য হতাশার। কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে তাই জোটের শরিকদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে মোদিকে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি দলগতভাবে নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করেছিল ৩৭০ আসন। আর জোটবদ্ধভাবে ৪০০টির বেশি আসনে জয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। তারা এটা অর্জন করতে পারলে নিশ্চিতভাবে সংবিধান পরিবর্তন করার দিকে এগুত। যা ছিল বিজেপির ঘোষিত লক্ষ্য। তাই এবারের নির্বাচন বিজেপি ও মোদির জন্য অশনিসংকেতও বলা যেতে পারে। ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও অন্ধ্র প্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু আজ বুধবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বৈঠকে যোগ দেবেন।
এই দুই শরিক দলের মিলিত আসন সংখ্যা ২৮, যা বিজেপির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এছাড়াও অন্যান্য ছোট ছোট শরিক দলকে সরকার গঠনে প্রয়োজন পড়বে বিজেপির। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
আর দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯২ আসন। ফলে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মোদির জোট সরকারে কাজ করার কোন অভিজ্ঞতা নেই। একরোখা ও স্বৈরাচারী মনোভাবের মোদি ছাড় দিয়ে কিভাবে সরকার গঠন করে আর কিভাবে সেই সরকার পরিচালনা করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।