Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

রাজধানীতে এক কবর সংরক্ষণে ব্যয় দেড় কোটি টাকা

admin • 03 Aug 2026, 12:29 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
রাজধানীতে এক কবর সংরক্ষণে ব্যয় দেড় কোটি টাকা

‘টাকা কড়ি ধন সম্পত্তি, অনেক অনেক বাড়ি গাড়ি...মরলে সঙ্গে যাবে না কোনই কিছুই...ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে তিন হাত মাটি’- গানের কথায় ফুটে উঠেছে নির্মম বাস্তবতা। পল্লীকবি জসীমউদ্দীনও তার ‘কবর’ কবিতায় লিখে গেছেন কীভাবে দাদির স্মৃতি রক্ষার্থে দাদু ত্রিশ বছর ধরে দু'নয়নের জলে আগলে রেখেছেন। এই ইটপাথরের রাজধানীতেও এমন অনেকে আছেন যারা পৃথিবীতে প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিচিহ্ন ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’ ধরে রাখতে কোনো বাধাই মানেন না।

 

কবর সংরক্ষণের পরিবর্তে কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা যেতো রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একটি আলিশান ফ্ল্যাট। কিন্তু প্রিয়জনের কবর সংরক্ষণের জন্য অর্থের তোয়াক্কা না করে কোটি টাকা ব্যয়ে কেউ কেউ কিনছেন রাজধানীতে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসহ প্রিয়জনের স্মৃতিপাগল এমন কিছু মানুষ ১৫-২৫ বছরের জন্য শেষ স্মৃতিটুকুই ধরে রাখছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় একটি কবর সংরক্ষণের ব্যয় সর্বাধিক দেড় কোটি টাকা। আর এ খাতে ডিএনসিসির কবর ব্যবস্থাপনা থেকে গত ছয় বছরে আয় হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।

 

জানা গেছে, ডিএনসিসি এলাকায় মোট ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। বনানী, উত্তরা ৪, ১২ ও ১৪ নম্বর সেক্টরে তিনটি, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী ও রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান। এসব গোরস্থানে সাধারণ ও সংরক্ষিত এলাকা চিহ্নিত করা থাকে। কবরস্থানের মোট জমির এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত এলাকা হিসেব বরাদ্দ থাকে। সিটি করপোরেশনের অনুমতি সাপেক্ষে এসব কবরস্থানে প্রিয়জনের কবর নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ২০২২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ও ২৫ বছর মেয়াদী কবর স্থায়ী করণ করা যায়। এর আগে ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ বছর মেয়াদী কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যেত।

 

নীতিমালা থেকে জানা যায়, বনানীতে ১৫ বছরের জন্য এক কোটি ও ২৫ বছরের জন্য দেড়কোটি টাকা ফি প্রযোজ্য। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের জন্য এই ফি ৭৫ লাখ ও এক কোটি। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের জন্য ৫০ লাখ ও ৭৫ লাখ টাকা। উত্তরে ১৪ নম্বরের জন্য এই ফি ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের জন্য ২০ লাখ ও ৩০ লাখ। রায়েরবাজারের জন্য ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হয় কবর স্থায়ী করনের জন্য। সাধারণ এলাকায় দাফন করা কোনো কবর স্থায়ীকরণের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়, তবে সেজন্য তিনগুণ ফি পরিশোধ করতে হবে। এসব কবর দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট ও প্রস্থে ৪ ফুট হবে, উচ্চতায় ৩ ফুটের বেশি হবে না। কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যেমন-স্থায়ী এসব কবরে পরিবারের পুত্র-কন্যা, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সহদোর-সহদোরা ছাড়া পুনঃকবর দেওয়া যাবে না। এজন্য বনানীতে ৫০ হজার ৫০০ টাকা ও অন্যান্য কবরস্থানে ৩০ হজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এমনকি স্থায়ী করনের দুই বছর পূর্বে নতুন কাউকে পুনঃকবর দেওয়া যাবে না, অনুমোদিত সংরক্ষিত কবরের বরাদ্দ কোনোভাবেই হস্তান্তর করা যাবে না এমন কিছু শর্তও রয়েছে। তাছাড়া মেয়াদ শেষের পুর্বে নবায়ন না করলে বরাদ্দ বাতিল হবে, এমনকি এক বা একাধিক শর্ত ভঙ্গের কারণেও অনুমোদন বাতিল হতে পারে।

 

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, গত ছয় অর্থবছরে এসব খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫৩.৪৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে ৫.২১ কোটি, ২০২৪-২৫ সময়ে ১৪.৫৭ কোটি, ২০২৩-২৪ এ ৭.২৯ কোটি, ২০২২-২৩ ৭.১২ কোটি, ২০২১-২২ ১০.৩৬ কোটি ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮.৯২ কোটি টাকা আয় হয়। এসব অর্থ শুধু কবর স্থায়ীকরণ ছাড়াও দাফন ও পুনঃকবর থেকেও আয় হয়।

 

জানা গেছে, প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে কবর স্থায়ী করনের আবেদন নিয়ে বৈঠকে বসে কর্তৃপক্ষ। আবেদন গ্রহণের পর মৃতব্যক্তির আত্মীয়স্বজনকে নির্দিষ্ট অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিতে সময় দেওয়া হয়। এরপর কবর স্থায়ীকরণের জন্য ডিএনসির পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কবর স্থায়ীকরণের অনুমতি দেওয়া হলেও মৃতব্যক্তির নিকটজনেরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।

 

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, গত ছয় বছরে ঠিক কতগুলো কবর স্থায়ীকরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে সেই পরিসংখ্যান বের করা খুব কষ্টসাধ্য। আর এই পরিসংখ্যান থাকে কবরস্থানের কাছে। তবে এ খাতে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছে ৫৩.৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুনঃকবর ফিও অন্তর্ভুক্ত।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।