Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
ফিচার

যেখানে প্রণয়-বিচ্ছেদের উপাখ্যান রচিত হয়!

admin • 29 Nov 2023, 12:47 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
যেখানে প্রণয়-বিচ্ছেদের উপাখ্যান রচিত হয়!

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত ?কেউ কথা রাখেনি? কবিতায় অজানা প্রেমিকটির তেত্রিশ বছর কেটেছে, হৃদয় গ্রাস করেছে শূন্যতায় তবুও কেউ কথা রাখেনি। কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা কেটে গিয়েছে তবে কোন এক বোষ্টুমী স্বেচ্ছায় থামিয়ে দেওয়া আগমনী গানের অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ফিরে আসেনি। হয়তো চাতক পাখির মতই অপেক্ষায় আছে প্রেমিকটি

 

সেই বোষ্টুমী আজও ফিরে না আসলেও বৃহন্নলার মতো আজও তোমার আগমনী সুরের অপেক্ষায় সেই তরুণ। অপেক্ষায় হাতে হাত রেখে স্বপ্ন বুননের, অপেক্ষায় এক বিকেল তোমায় নিয়ে হাঁটার এই ব্যস্ত কংক্রিটের যান্ত্রিক রাস্তায়। যে সরণীরকে ঘিরে তোমারই অগোচরে রচিত হয়েছে শত-সহস্র স্মৃতি-গল্পের। এই সেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া রোড যেথায় বাস্তবতা আর প্রেমিক যুগলের কল্পনায় অঙ্কিত হয়েছে নতুন আরেক প্রেমময় স্বর্গ।

   

সেখানে আছে মিলনের সুর, একই সাথে বিরহের বোবা আর্তনাদ। মানুষ নাহি বাঁচে প্রেমহীন। তাই তো প্রেমের জন্য এতো কিছু। এমন দৃশ্যপটের কথা ভেবেই হয়তো বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম লিখে ছিলেন, ?তোমাকে যে ভুল করে চেয়েছে একদিন, সেই জানে তোমাকে ভুলা কত কঠিন।?

 

তবে শুধু বিচ্ছেদ নয়, হাজারো প্রণয় গল্পের সাক্ষী এই রোড। অসংখ্য নব্য প্রেমের সূচনা যেমন হয়েছে এখ?ানে, তেমনই নব্বই হতে একবিংশের বিচ্ছেদ গল্পের নিরব নাট্যকারও সে। একই দৃশ্যপটে কেবল পরিবর্তন এসেছে মঞ্চায়িত জীবন নাট্যের প্রধান চরিত্রে। গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা বসন্তের মায়াবী বিকেলের কন্যা সুন্দর লগ্নে প্রেয়সীর হাসি, কান্না, বিষন্নতার জীবন্ত স্বাক্ষী সে।

   

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরব রাস্তাগুলোর মধ্যে অন্যতম পশ্চিম পাড়া রোড। যা সকাল-সন্ধ্যা মুখরিত থাকে শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। রাস্তার দুই পাশে থাকা সুবিশাল গাছগুলোর পাতার ফাঁক দিয়ে যখন প্রভাতের প্রথম আলো এসে পড়ে তখন মনে হয় এ যেন কোন এক মায়াবী সরণী। যেখায় সহস্র প্রজাপতি তার পাখা নেড়ে অভিবাদন জানাচ্ছে। এই রাস্তার প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায় বসন্তের আগমনের সাথে। বাহারী সব ফুল আর পাতা বাহরে অনিন্দ্য মিশলে রূপ নেয় নন্দ কাননে।

   

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বাহির থেকে মানুষ এসে ভিড় জমায় এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কেউ কেউ প্রিয় মানুষটির সাথে নিজেকে বন্দী করেন একই ফ্রেমে। কেউ বা পাশাপাশি হেঁটে চলেন উদ্দেশ্যহীন। রাস্তার পাশের কংক্রিটের বেঞ্চগুলোতে জমে উঠে সুখ-দুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার গল্পগুলো।

   

রোডের সর্ব দক্ষিণ প্রান্তের পশ্চিম পাশে রয়েছে ইবি ছাত্রীদের তিনটি আবাসিক হল- দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হল, বেগম খালেদা জিয়া হল এবং আরও দুইটি ছাত্রী হল নির্মাণাধীন। তার ঠিক বিপরীতেই রয়েছে ইবির প্রেম উদ্যান হিসেবে পরিচিত পেয়ারা তলা। যেখানে পড়ন্ত বিকেলে সময়ের সাথে সমানুপাতিক হারে বাড়ে প্রেমিক যুগলের সংখ্যা।

   

বর্ষায় পশ্চিম পাড়া রোড সাজে এক নবরূপে। তার সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গেলে কবি মহাদেব সাহার ভাষায় বলতে হয়- ?কাগজ আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ প্রেমের কবিতা লিখে রেখেছে আকাশে। সেই ভালোবাসার কবিতা এই বৃষ্টি, এই ভরা বর্ষা।?

   

সময়ের আবর্তনে পরিবর্তন আসবে লাভ রোড তথা পশ্চিম পাড়া রোডে রচিত গল্পগুলোর চরিত্রে। আসন্ন বর্ষায় আসবে আরও কিছু নতুন মুখ। বেড়ে যাবে আরও কিছু প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প। পরিচিত রাস্তায় শূন্য পকেটে হাঁটবে না আজকের এই মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর। রুক্ষ দুপুরের অবসন্ন ক্লান্তিতে ক্যাম্পাস বাসের গিঞ্জি ভীড়ে চেপে টিউশনিতে ছুটবে না স্বপ্নবাজ এই তরুণ। মায়াবী বিকেলে দু'পয়সার একটি গোলাপ আর প্রিয় বেলী ফুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে না আবেগ প্রবণ প্রেমিক হয়ে।

   

ব্যস্ত ভালোবাসা সরণীর (পশ্চিম পাড়া রোড) চায়ের কাপের অলস আড্ডায় ঘোরলাগা বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যে উপভোগ করবে না আজকের এই বেকার যুবক। সেই রুক্ষ দুপুর, মায়বী বিকেল, বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যের গল্প মঞ্চায়নে আসবে নতুন আরেকটি শিল্পীর দল। অতঃপর দু'পয়সায় আরও একটি গোলাপ কেনা হবে। প্রিয়তমার জন্য গাঁথা হবে সদ্য ফুটন্ত বেলীর নতুন আরেকটি মালা। আর এভাবেই ধারাবাহিক চক্রে ভালোবাসার গল্পগুলো বেঁচে থাকবে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, তাকে প্রথম দেখেছিলাম কোন এক বিকেলে এই রোডে। আর সেই দেখাতেই ভালোলাগা এবং ভালোবাসার শুরু। তারপর কেটে গিয়েছে ক্যাম্পাস জীবনের সবটা সময়। অসংখ্য স্মৃতি এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে। পৌষের সকালে খালি পায়ে দু?জনে এক সাথে হাঁটা, প্রিয় মানুষটার জন্য বকুল ফুল কুড়ানো এমন ছোট ছোট কাজ গুলোই ছিলো ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ৬ বছরের সমপর্ক আমাদের আর বিয়ের বয়স ৩ বছর। বাড়ি থেকে এখনও মেনে নেয়নি। তারপরেও দু?জন একসাথে আছি; আলহামদুলিল্লাহ। সারা জীবন এভাবেই যেন থাকি।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।