Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

যাত্রাবাড়ী থেকে ‘সিরিয়াল ধর্ষক’ রাব্বি গ্রেফতার

admin • 15 Apr 2026, 04:03 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
যাত্রাবাড়ী থেকে ‘সিরিয়াল ধর্ষক’ রাব্বি গ্রেফতার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে উপহার দেওয়ার ফাঁদে ফেলে তরুণদের শারীরিক নির্যাতন ও ব্লাকমেইল করে আসছিলো রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের এক যুবক। এক ভুক্তভোগী অভিযোগের সূত্র ধরে পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইলকারী ওই সিরিয়াল ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার ( ১৩ এপ্রিল) যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ বলছে, তদন্তে নেমে গত দেড় মাসে একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ব্লাকমেইলের শিকার অন্তত ১৩ ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের বয়স আনুমানিক ১৮ থেকে ২০।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ৪ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় এক তরুণী পর্নোগ্রাফি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় পুলিশ। এখন পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত নিজেই ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, প্রতারক রাব্বির অপরাধের ধরন ছিল প্রায় একই। প্রথমে সে কোনো তরুণীকে টার্গেট করে তার মোবাইল ফোন নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখলে নিয়ে ওই ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকার অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করত। ধীরে ধীরে সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাইরে ডেকে নিত।
তিনি জানান, কখনো আত্মীয় পরিচয়ে সিএনজি বা অন্য যানবাহনে উঠে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যেত রাব্বি। সাধারণত মেট্রো স্টেশন এলাকা বা সচিবালয়ের আশপাশে তাদের ডেকে এনে পরে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন দুটি বাসায় নিয়ে যেত—দিনে এক বাসা, রাতে আরেকটি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বাসায় নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দখলে নেওয়া হতো। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নতুন ভুক্তভোগী খোঁজা হতো। এভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই একটি চক্রের মতো কার্যক্রম চালাত রাব্বি।
তিনি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকাও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং আরও উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক সম্মানের ভয়ে সরাসরি মামলা না করে ‘মোবাইল হারিয়েছে’ উল্লেখ করে জিডি করেছেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। মিরপুর থানাতেও এ ধরনের বেশ কিছু জিডি রয়েছে।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, রাব্বির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে এবং আরও তিন থেকে চারটি জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তার কোনো সহযোগী রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে একাই এসব অপরাধ সংঘটিত করলেও সীমিত সহযোগিতা থাকতে পারে।
তিনি বলেন, উদ্ধার করা মোবাইলগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, প্রতিটি ফোনই কোনো না কোনো ভুক্তভোগীর। একটি ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আরেকজনকে ফাঁদে ফেলা হতো। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
পুলিশ জানায়, সব ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা না ঘটলেও ব্ল্যাকমেইল, পর্নোগ্রাফি ব্যবহার এবং অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেককে ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে এমন কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে।
ডিসি আরও জানান, রাব্বি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করত এবং কোনো পেশায় যুক্ত ছিল না। এমনকি যাকে সে বিয়ে করেছে, তাকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার তথ্য পাওয়া গেছে। শ্বশুরবাড়িতেও একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে একবার ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।