Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

মাগুরার বরেণ্য শিক্ষাবিদ ভাষা সৈনিক খান জিয়াউল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

admin • 14 Jan 2026, 10:45 AM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
মাগুরার বরেণ্য শিক্ষাবিদ ভাষা সৈনিক খান জিয়াউল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১৪ জানুয়ারি মাগুরার বরেণ্য শিক্ষাবিদ, ভাষা সৈনিক ও সামাজিক–সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খান জিয়াউল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে মাগুরার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।

খান জিয়াউল হক ১৯২৮ সালের ৮ জুন মাগুরা জেলার ভায়না গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তৎকালীন মাগুরা এসডিও কোর্টের নাজির আবুল কাশেম খান। পিতার চাকরিসূত্রে তাঁর শৈশব কেটেছে দেশের নানা অঞ্চলে।

শিক্ষাজীবনে তিনি বনগাঁ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যশোর জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, কলকাতার রিপন কলেজ এবং যশোর এমএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এমএম কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র সংসদের জিএস ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ সময়ই তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।


১৯৫২ সালে যশোর এমএম কলেজে পুলিশি হামলার পর তিনি মাগুরায় ফিরে আসেন এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে মাগুরায় মিছিল বের হলে পুলিশ খান জিয়াউল হকসহ তিনজনকে আটক করে।

কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে তিনি মাগুরা মডেল হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে মাগুরা এজি একাডেমিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা ৪৪ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষার পাশাপাশি তিনি মাগুরার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন। দীর্ঘ ২২ বছর মাগুরা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এ অঞ্চলের থিয়েটার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে কাজ করেন।


এছাড়া টানা ৪৪ বছর মাগুরা সৈয়দ আতর আলী পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এটিকে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেন। ১৯৬৫ সালে মাগুরায় প্রথম স্কাউট আন্দোলনের সূচনা তাঁর হাত ধরেই। তাঁর উদ্যোগে মাগুরা এজি একাডেমিতে দুধ মল্লিক বালিকা বিদ্যালয়, মাগুরা আদর্শ কলেজ, তিন নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজসহ জেলার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ সম্মান ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় সমাজকল্যাণ পুরস্কারসহ বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি স্মারক সম্মান, নরেন বিশ্বাস পদক, গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক পুরস্কার, আব্দুল হাই গোল্ড মেডেল, হরিশ দত্ত নাট্য পদক, থিয়েটার ইউনিট নাট্য পদক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।

আজ তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে মাগুরাবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে এই গুণী শিক্ষাবিদ ও ভাষা সৈনিককে, যাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে আলোকিত করে রাখবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।