এক্সক্লসিভ
ভৈরবে মায়ের পাশ থেকে নবজাতক উধাও, মরদেহ মিলল ঝোঁপঝাড়ে।
admin
• 19 Jun 2024, 12:48 PM
• পঠিত 3 বার
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাত দিন বয়সী নবজাতক সন্তানকে পাশে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন মা তৃষা বেগম। ভোর তিনটায় ঘুম ভাঙলে বিছানায় সন্তানকে না দেখতে পেয়ে যান স্বামীর ঘরে। সেখানে সন্তানকে না পেয়ে শুরু মায়ের আহাজারি।
ঈদের দিন শেষে রাতের আঁধারে কোন এক সময় ভৈবর পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার একটি বিল্ডিং এর দশম তলার একটি ফ্ল্যাটের রুম থেকে নিয়ে গিয়ে সাত দিন বয়সী নবজাতককে মেরে ফেলার এ ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলে বাড়ির পাশে ঝোঁপঝাড়ে। পরে খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
নিহত নবজাতক শিশুটির নাম তাসনিদ এহসান, তার বাবা ডা. উসমান গণি। তিনি সেন্ট্রাল নামের স্থানীয় একটি হাসপাতালের মালিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক।
এ বিষয়ে স্বজনরা জানান, বাচ্চাকে দুধ খাওনো শেষ করে ঘুমিয়ে ছিল মা। বাবা ঘুমিয়ে ছিল আরেক রুমে। ঘরে শিলা ও মিম নামে দুইজন কাজের লোকও ছিল। এছাড়াও সুমাইয়া নামের একজন নারী ছিল। সে শিশুটির মায়ের বান্ধবী। হঠাৎ রাত তিনটার দিকে মা বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে গেলে ১০ মিনিটের মধ্যে বাচ্চাটি নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তাৎক্ষণিক ভৈরব থানায় এসে অভিযোগ দেয় নিখোঁজ শিশুটির পরিবার।
এর পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে কাজের মহিলার মাধ্যমে জানতে পারে শিশুটি বাড়ির পাশে একটি ঝোঁপঝাড়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় দুই কাজের মেয়ে ও নবজাতকের মা ও তার বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নিয়ে যায় পুলিশ।
এ দিকে স্থানীয়রা জানান, ডা. উসমান গণির দ্বিতীয় স্ত্রী তৃশা। তাদের পরিবারের বোরাক নামের দেড় বছরের একট ছেলে সন্তান রয়েছে। সাতদিন আগে ডা. উসমান গনির মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। তবে বেশ কিছুদিন যাবত তাদের পরিবারে কলহ চলছিলো। প্রায় সময় তাদের বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাওয়া যেত। পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। স্থানীয়রা আরোও জানান, বিল্ডিয়ের কেউ প্রবেশ করেনি। ঘটনাটি ঘরের মধ্যেই কিছু একটা ঘটেছে। শিশুটিকে কেউ বিল্ডিং থেকে ফেলে দিয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
নিহত শিশুর মা তৃষা আক্তার জানান, তাসনিদ এহসান আমার ৭দিনের ছেলে। মধ্যরাতে কে বা কারা আমার শিশু সন্তানটিকে নিয়ে গেছে। আমি বাথরুমে গেলে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে আমি আমার সন্তানকে বিছানায় পায়নি। যারা আমার সন্তান হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি ।
বিল্ডিংয়ের কেয়ার টেকার আফজাল জানান, ভোর ৫টায় ডা. উসমান গনি আমাকে জানান তার সন্তান কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। তার চিৎকারে পাশের ফ্লাটের প্রতিবেশিরাও জেগে যায়। পরে সবাই মিলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাচ্চাটি পাওয়া যায়নি। কাজের মেয়ে জানালো বিল্ডিংয়ের অদূরে একটি ঝোপে বাচ্চাটি পড়ে আছে। পুলিশ এসে মরদেহ নিয়ে যায়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে নবজাতকটিকে হত্যার বিষয়টি রহস্যজনক। শিশুটির মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিল্ডিং থেকে ফেলা হয়েছে কি না বা মেরে ফেলে রাখা হয়েছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নবজাতকের বাবা ওসমান গণি, মা তৃষা, তৃষার বান্ধবী সুমাইয়া, কাজের মেয়ে শিলা ও মিমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।





