দীর্ঘ নয় বছর পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামালপুর জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন। আগামীকাল শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে শহরের বেলটিয়া এলাকার একটি খোলা মাঠে এ সম্মেলন শুরু হবে। ইতোমধ্যে মাঠজুড়ে মঞ্চ, ব্যানার, তোরণ ও ফেস্টুনে সেজে উঠেছে চারপাশ।
সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগ্রহ। সম্মেলনে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জানা গেছে, সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সভাপতি এবং অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আর কোনো কমিটি গঠিত হয়নি। ফলে এ সম্মেলনকে ঘিরে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, এবারের কাউন্সিল অধিবেশন ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে জেলা বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাবশালী শামীম-মামুন জুটি আগামীতে কী ধরনের নেতৃত্বে আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। তবে সম্মেলনকে ঘিরে সবকিছু একেবারে শান্তিপূর্ণ নয়। দলের একাংশ, বিশেষ করে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহাম্মেদের নেতৃত্বে একটি অংশ দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে এ সম্মেলন গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে তারা বিক্ষোভ মিছিল, মশাল মিছিল ও হরতাল পালন করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে সার্কিট হাউসে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৈঠকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক উপমন্ত্রী সিরাজুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, কেন্দ্রীয় নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শামীম আহাম্মেদ বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথে আন্দোলনে ছিলাম। আমাদের মতো অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে বর্তমান কমিটির প্রভাবে সম্মেলন করা হচ্ছে। আমরা এ সম্মেলন মানি না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।”
অন্যদিকে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, জেলার সাতটি উপজেলা ও আটটি পৌরসভার সম্মেলন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের এ সম্মেলনে ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, “সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরো শহর ব্যানার, পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার পাঁচ আসনে জয়লাভের লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।”
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণ ফিরেছে।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফিরেছেন, অনেক বন্দি নেতাকর্মীও জামিনে মুক্ত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনের আগে জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণ করেছেন। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে আমরা মাঠে কাজ করছি।
এ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।” সব মিলিয়ে নয় বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলন ঘিরে জামালপুর শহর এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।





