Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

বিশ্বে ছড়িয়েছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা’, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

admin • 29 Mar 2026, 12:48 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
বিশ্বে ছড়িয়েছে কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘সিকাডা’, কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

অস্বাভাবিক উচ্চসংখ্যক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে করোনাভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট। ‘BA.3.2’ নামে পরিচিত এই ভ্যারিয়েন্টটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক অঙ্গরাজ্য এবং অন্তত আরও ২২টি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে ইন্ডিয়াটুডের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গবেষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যারিয়েন্টটির নাম দিয়েছেন ‘সিকাডা’। মাটির নিচে দীর্ঘ সময় থাকার পর বেরিয়ে আসা এক বিশেষ পতঙ্গের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নজরদারি ব্যবস্থায় ধরা পড়ার আগে ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে বিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিকাডা বা BA.3.2 ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা পূর্ববর্তী অনেক ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় অনেক বেশি।

এই পরিবর্তনের একটি বড়ো অংশই ঘটেছে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে, যার মাধ্যমে এটি মানব কোষে প্রবেশ করে।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি উন্নত ‘ইমিউন এস্কেপ’ ক্ষমতা সম্পন্ন। অর্থাৎ, বর্তমান টিকা বা আগে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিকে এটি সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম হতে পারে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম এই ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছিলো। তবে দীর্ঘদিন জিনোমিক ডেটাবেসে এটি খুব একটা দেখা না গেলেও ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিভিন্ন দেশে এটি হঠাৎ আবির্ভূত হতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এটি ধরা পড়ে ২০২৫ সালের জুনে নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এক ভ্রমণকারীর মাধ্যমে। ওমিক্রন পরিবারের শাখা BA.3 থেকে এই নতুন বংশধারাটির উৎপত্তি হয়েছে।

এটি কি বড়ো কোনো হুমকি?

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হলেও এটি ছড়িয়ে পড়ার হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে BA.3.2 পূর্ববর্তী ভ্যারিয়েন্টগুলোর চেয়ে বেশি গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করছে। তবে গবেষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন যে এর জিনগত পরিবর্তনগুলো টিকার কার্যকারিতাকে কতোটা প্রভাবিত করবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।