Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

বরিশালে ব্রিজ ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ

admin • 15 Apr 2026, 06:10 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
বরিশালে ব্রিজ ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। এই সেতু নির্মাণের অজুহাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা এবং ঢালাইয়ের দিন সিমেন্ট নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে সোহেল মোল্লা নামে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে।

সেতুর ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও উপজেলা এলজিইডি বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ি সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ওই ব্রিজটি ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাচঁ ফুট প্রস্ত। ব্রিজটির ঢালাই দেওয়ার সরকারি নিয়ম রয়েছে পাঁচ ইঞ্চি, কিন্তু ঢালাই দিয়েছে সাড়ে তিন ইঞ্চি।

আয়রন ব্রিজের দৈর্ঘের আট ইঞ্চি ও প্রস্তে ছয় ইঞ্চি পর পর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার দিয়ে এক ফুট পরপর দেন। স্থানীয়রা ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে ঠিকাদার পাঁচটি রড আনেন এবং ঢালাইয়ে সিমেন্ট কম হওয়ায় স্থানীয়দের দিয়ে পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট কেনান। পরে ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ব্রিজটি ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্যের হলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ঢালাই দিয়েছেন ৪৫ ফুট।

উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদ ব্রিজটি ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল মোল্লাকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ব্রিজের সুফলভোগীদের কাছ থেকে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫ ফুট ব্রিজের বাইরে। এটা আমরা করিনি, করেছে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার বলেন, ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায় দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ব্রিজ ঢালাই দেওয়ার কথা আমাদের বিভাগকে কেউ জানায়নি। কেউ এলজিইডি বিভাগকে না জানিয়ে ব্রিজের ঢালাই দিতে পারে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, আমি ব্রিজের ঢালাইয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিন গিয়ে ব্রিজটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।