Friday, 4 September 2026
শিরোনাম
জাতীয়

প্রথম মুসলিম নারী ব্যারিস্টার সালমা সোবহানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

admin • 13 Aug 2023, 05:31 PM • পঠিত 3 বার
শেয়ার করুন:
প্রথম মুসলিম নারী ব্যারিস্টার সালমা সোবহানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন

উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী ব্যারিস্টার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক সালমা সোবহানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (১১ আগস্ট) আসক কার্যালয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে মানুষের অধিকার রক্ষায় সালমা সোবহানের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আসক চেয়ারপারসন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাতেমা রশিদ হাসান, কোষাধ্যাক্ষ অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার, সদস্য অ্যাডভোকেট রওশন জাহান পারভীন, ব্যারিস্টার হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ফয়েজ আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাবরুক মোহাম্মদ এবং আসক-এর নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খানসহ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নারী সমাধিকার আন্দোলনের সংগঠক সালমা সোবহান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ১১ আগস্ট। তার পুরো নাম সালমা রাশেদা আক্তার বানু। সালমা সোবহানের পিতা মোহাম্মদ ইকরামুল্লাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম পররাষ্ট্র সচিব। তার মাতা বেগম শায়েস্তা সোহরাওয়ার্দী ইকরামুল্লাহ ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় পরিষদের সদস্য।

 

সালমা সোবহানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় ইংল্যান্ডের ওয়েস্টনবার্ট স্কুলে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৮ সালে কেমব্রিজের গির্টন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালে লিংকন’স ইন থেকে বার এট’ ল সনদপ্রাপ্ত হন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬২ সালে। ১৯৫৮ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি ব্যারিস্টার ডিগ্রি লাভ করেন।

 

সালমা সোবহান কর্মজীবনের শুরুতেই ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের মেসার্স সারিজ অ্যান্ড বিচেনো ল’ ফার্মে লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে বিয়ে হওয়ার পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)-র গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ল’ রিপোর্টসের সম্পাদক ছিলেন।

 

সালমা সোবহান ব্র্যাকের গ্রামীণ মহিলা সদস্যদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির কাজে আধা-আইনজ্ঞদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি আইনি স্বাক্ষরতা কর্মসূচির পরিকল্পনা করেন। তিনি ও তার আটজন সহকর্মী মিলে ১৯৮৬ সালে গঠন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। দীর্ঘ ১৫ বছর (১৯৮৬-২০০১) তিনি এই সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে এই সংস্থা একটি নেতৃস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থায় পরিণত হয়।

 

নারী অধিকার রক্ষায় অবদান রাখার জন্য তিনি ২০০০ সালে ঢাকা ‘অনন্যা’ ম্যাগাজিন পুরস্কার এবং ২০০১ সালে নিউইয়র্কে ‘ল’ইয়ার্স কমিটি ফর হিউম্যান রাইট্স পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া নারীদের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার নামে ‌’সালমা সোবহান সাংবাদিকতা ফেলোশিপ’ প্রদান করা হয়।

 

সালমা সোবহান রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘লিগাল স্ট্যাটাস অব ওমেন ইন বাংলাদেশ’ (১৯৭৫), পিস্যান্টস পারসেপশন অব ল’ (১৯৮১) এবং নো বেটার অপশন? ওমেনট ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স (সহ লেখক, ১৯৮৮)।

 

সালমা সোবহান ২০০৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।